খাদ্যপণ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিস্তৃত হচ্ছে হালাল অর্থনীতি

খাদ্যপণ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিস্তৃত হচ্ছে হালাল অর্থনীতি

যুক্তরাজ্যে লন্ডনের কুইন এলিজাবেথ দ্বিতীয় সেন্টারে আয়োজিত লন্ডন হালাল ফোরামের বার্ষিক অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে কার্যক্রম শুরু হয় ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যবাহী নাশতার আয়োজনের মধ্য দিয়ে। রোববার এতে অংশগ্রহণকারীদের সামনে ফিলিস্তিনের ঐতিহ্যবাহী খাবার হুমুস, জা’তার, লাবনেহ ও ফালাফেল পরিবেশন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনের খাদ্যসংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।

‘মানবতার জন্য হালাল ও পবিত্র’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবারের ফোরামে হালাল অর্থনীতির সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। শুধু হালাল সনদ ও খাদ্যপণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিনিয়োগ, পর্যটন, প্রযুক্তি, সরবরাহব্যবস্থা, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এ অর্থনীতির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও শিল্প খাতের নেতারা।

বিজ্ঞাপন

সশরীর ও ভার্চ্যুয়াল মিলিয়ে ওই আয়োজনে দেড় হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যুক্ত হন। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে লন্ডনের গুরুত্ব বাড়ার বিষয়টিও ওই আয়োজনের মধ্য দিয়ে উঠে আসে। হালাল৩৬০-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ ফোরামটি ইসলামিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিডি) এবং হালাল প্রোডাক্টস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির (এইচপিডিসি) যৌথ উদ্যোগ। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সহযোগী হিসেবে রয়েছে আনাদোলু।

এতে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ইস্তাম্বুলে ফিলিস্তিনের সমর্থনে অনুষ্ঠিত বিশাল সমাবেশের কথা স্মরণ করে তুরস্কের ইবনে হালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ডেপুটি চেয়ারম্যান বিলাল এরদোয়ান বলেন, আগামী বছরের ১ অক্টোবরও ফিলিস্তিনের মানুষের কথা স্মরণ করতে এবং তাদের প্রতি সংহতি জানাতে মানুষ রাস্তায় নামবে।

বিলাল এরদোয়ানের মতে, ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যবাহী নাশতার এই আয়োজন এ ক্ষেত্রে করণীয়ের একটি বাস্তব উদাহরণ। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনের উৎপাদক, বিনিয়োগকারী এবং নতুন উদ্যোগ বা স্টার্টআপগুলোকে শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হয়। এ উদ্যোগের সূচনা হতে পারে খাদ্য খাত থেকে। পরে প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজনকারী খাতেও তা সম্প্রসারণ করতে হবে। ফিলিস্তিনের জন্য তুরস্ক তার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাবে। ফিলিস্তিন ইস্যু রাজনৈতিক বিভাজন ও দলীয় সীমারেখার ঊর্ধ্বে।

ইসরাইলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে তার দেশটিতে যেতে না পারার বিষয়ে গণমাধ্যমের খবর নিয়েও কথা বলেন বিলাল এরদোয়ান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব বেশি দেরি না করে একদিন আল-আকসা মসজিদ পরিদর্শন করতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ, আমরা সবাই একদিন আল-কুদসে শান্তি ও সম্প্রীতির মধ্যে একত্র হতে পারব এবং সেখানে বৈঠক করতে পারব।’

অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হুসাম জমলত বলেন, গাজায় গণহত্যা এবং পশ্চিম তীরে জাতিগত নিধন অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনিদের জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল অর্থনৈতিক যুদ্ধও চালাচ্ছে, যা কয়েক দশক ধরে অব্যাহত রয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সুলুহ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারপারসন নুরুল ইজ্জাহ আনোয়ার এবং আইসিসিডির মহাসচিব ইউসুফ খালাভি। এতে লন্ডনে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ওসমান কোরাই এরতাসও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ফিলিস্তিনি জাদুঘরের ওপর একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। ফিলিস্তিনের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজের নানা দিক তুলে ধরা এবং সেগুলোর বর্ণনা সমৃদ্ধ করাই এ জাদুঘরের লক্ষ্য। ২০২৫ সালের নভেম্বরে লন্ডনের এক্সেল কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো লন্ডন হালাল ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন