যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’র ওপর ইউরোপীয়দের আস্থা সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইউরোপের ১৫টি দেশের প্রতি ১০ জনের মধ্যে মাত্র একজন যুক্তরাষ্ট্রকে মিত্র হিসেবে দেখে। সেই সঙ্গে আক্রান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান এসব দেশের বেশির ভাগ মানুষ। ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের এক জরিপে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক ইউরোপীয় মনে করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়ার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হবে। তবে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার মাধ্যমে নিজেদের রক্ষা করতে ক্রমশ প্রস্তুত হচ্ছেন তারা ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যপ্রাচ্যে আগ্রাসন, গ্রিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে হুমকি, ইউরোপীয় ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহারের অঙ্গীকার এবং ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে ইউরোপকে উৎসাহিত করেছে।
সমীক্ষা প্রতিবেদনের সহলেখক এবং ইসিএফআরের সিনিয়র পলিসি ফেলো জানা কোবজোভা বলেন, ‘মহাদেশজুড়ে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমানোর ব্যাপারে সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ইউরোপ প্রতিরক্ষা খাতে উচ্চতর ব্যয়ের ব্যাপারে ক্রমশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা এ ব্যাপারে এক অসাধারণ আস্থা দেখাচ্ছে যে সংকটের সময় প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে।’
মে মাসে অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যে এই জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা যায়, এসব দেশজুড়ে গড়ে মাত্র ১১ শতাংশ উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্রকে মিত্র হিসেবে দেখছেন।
প্রায় প্রতিটি দেশেই অধিকাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাদের দেশের উচিত মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ওপর কৌশলগত নির্ভরতা কমানো। ‘ইউরোপীয় পণ্য কিনুন’ নীতির সমর্থকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ডেনমার্ক (৭৫ শতাংশ), নেদারল্যান্ডস (৭২ শতাংশ), সুইডেন (৭০ শতাংশ), পর্তুগাল (৬৯ শতাংশ), ফ্রান্স (৬৬ শতাংশ), সুইজারল্যান্ড (৬৪ শতাংশ), যুক্তরাজ্য এবং স্পেনে (উভয়ই ৬২ শতাংশ)।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



ইয়েমেন উপকূলে পণ্যবাহী জাহাজে হামলা
গিনিতে স্বর্ণের খনি ধসে ১১ জনের মৃত্যু