চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছায়নি ইরান। তবে শেষ পর্যন্ত তেহরানকে সমঝোতায় আসতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষায়, ইরানের নেতারা ‘শক্তিশালী’ ও ‘অহংকারী’, তাই সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় নিচ্ছেন।
শুক্রবার এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তারা শক্তিশালী, তারা অহংকারী। এমন কিছু কাজ তাদের করতে হবে, যা তারা কখনো করবে বলে ভাবেনি। তাদের আর কোনো বিকল্প নেই, তবে এতে কিছুটা সময় লাগছে।
গত সপ্তাহে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত চতুর্থ মাসে প্রবেশ করেছে। যুদ্ধ বন্ধে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চললেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। গত এপ্রিলে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল এবং তা কয়েক দফা বাড়ানো হলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আবার উত্তেজনা বেড়েছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচালিত সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে। তার দাবি, হরমুজ প্রণালীর কাছে জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের হামলার জবাবে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এসব অভিযান চালিয়েছে।
রুবিও বলেন, আমাদের বাহিনীকে রক্ষার জন্য আমরা শুধু ড্রোন নয়, যারা ড্রোন উৎক্ষেপণ করে তাদেরও লক্ষ্যবস্তু করি। এটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ।
সংঘাতের জেরে কয়েক মাস আগে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যও বৃদ্ধি পায়। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানোর দাবি জোরালো হয়েছে।
তবে দ্রুত চুক্তির জন্য চাপ সৃষ্টিকারীদের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, এ ধরনের বিষয় সমাধান করতে বছরের পর বছর সময় লাগে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইরানের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরো বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করেছে। তার মতে, ড্রোন কারখানা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন স্থাপনার অধিকাংশই ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে ইরানের এখনো কিছু সামরিক সক্ষমতা রয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের যত ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, বর্তমানে তার প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে।
তিনি বলেন, তাদের এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আছে। সংখ্যায় তা কম হলেও একেবারে উপেক্ষা করার মতো নয়।
চলতি সপ্তাহে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে একাধিক হামলা চালিয়ে ইরান এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে প্রমাণ দিয়েছে। হামলার একটি ঘটনায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ থেকে বিরত রাখতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল।
অন্যদিকে সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি না-ও হতে পারে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, আমরা কি চুক্তি করব, নাকি অন্য পথ বেছে নেব? আর সেই অন্য পথ মোটেও সুখকর নয়।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



বাংলাদেশে করেন সরকারি চাকরি, কিন্তু মন ভারতে! বিসিএস কর্মকর্তার কমেন্ট ভাইরাল
ইসরাইলবিরোধী মনোভাবে শীর্ষে তুরস্ক ও সবচেয়ে কমে ভারত, বাংলাদেশে কত