আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

৩৩ বছর বয়সি সাংবাদিকের জন্য কাঁদছেন সহকর্মীরা

শিশুসন্তানের জন্য অছিয়ত লিখে রেখেছিলেন মরিয়াম

দ্য গার্ডিয়ান

শিশুসন্তানের জন্য অছিয়ত লিখে রেখেছিলেন মরিয়াম

অবরুদ্ধ গাজায় দায়িত্ব পালনকারী আর সব সাংবাদিকের মতোই নিজের অছিয়ত তৈরি করে রেখেছিলেন মরিয়ম আবু দাক্কা। মাত্র ৩৩ বছর বয়স সত্ত্বেও যুদ্ধের অনিশ্চয়তায় অছিয়ত তৈরি করেন তিনি। নিজের অছিয়তে দুই নির্দেশনা দিয়ে যান তিনি। প্রথমত, সহকর্মীরা যাতে তার জানাজায় কান্না না করেন এবং দ্বিতীয়ত, ১৩ বছর বয়সি ছেলে গেইছ যাতে তাকে গর্বিত করে।

মরিয়মের নির্দেশনা সত্ত্বেও গত সোমবার তার জানাজায় চোখের পানি আটকাতে পারেননি সহকর্মীরা। দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসে নাসের হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের সময় আরো চার সাংবাদিকের সঙ্গে ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হন তিনি।

বিজ্ঞাপন

২১ বছর বয়সি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও মরিয়মের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সামাহির ফারহান বলেন, ‘মরিয়ম আমাদের নির্দেশনা দিয়ে গেছেন তার জানাজায় না কাঁদতে। তিনি চেয়েছিলেন যাতে বিদায়ের আগের সময়টুকুতে তার লাশের পাশে থাকি, তার সঙ্গে কথা বলি এবং আমাদের অনুভূতি প্রকাশ করি।’

গাজায় সামাহির ফারহানসহ আরো অনেক সাংবাদিকের কাছে অনুপ্রেরণা দানকারী ব্যক্তিত্ব ছিলেন মরিয়ম আবু দাক্কা। এ নারী ফটোসাংবাদিক যুদ্ধের মধ্যে নিজের গভীর দুঃখ ও স্বজন হারানোর বেদনাকে পাশে ঠেলে নিরন্তরভাবে গাজার খবর সংগ্রহের কাজে লেগে থাকার জন্য প্রশংসিত ছিলেন।

সাংবাদিক হিসেবে তার খ্যাতির শুরুতেই ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হন তিনি। ২০১৮ সালে গাজায় ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের নিজ ভূমিতে ফেরার দাবিতে চলা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ইসরাইলি বাহিনীর এক বিক্ষোভকারীকে হত্যার দৃশ্যধারণ করেন মরিয়ম। পরে তিনি উদ্ঘাটন করেন, নিহত বিক্ষোভকারী তার আপন ভাই। ওই বিক্ষোভে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ২২০ জনের বেশি লোক নিহত ও আরো ৯ হাজার ২০০ জন আহত হন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের শুরু থেকে মরিয়ম আবু দাক্কা নিরন্তরভাবে কাজ করে গেছেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের ভিত্তিতে আমেরিকার বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও ব্রিটেনভিত্তিক আরবি সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট আরবিতে কর্মরত ছিলেন।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট আরবিতে মরিয়মের সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি ছিলেন গভীর অধ্যবসায় ও পেশাগত অঙ্গীকারবদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নিজের ক্যামেরা নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলের কেন্দ্রে চলে যেতেন, যেখান তিনি মানুষের দুর্ভোগ এবং বক্তব্যকে বিরল সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরতেন।

মরিয়মের তোলা ছবি ও প্রচারিত খবরে মূলত মানবিক বিষয়বস্তু উঠে এসেছিল। কয়েক সপ্তাহ আগে অপুষ্টিতে মারা যাওয়া পাঁচ বছরের শিশু জামাল আল-নাজ্জারের ছবি তুলেছিলেন তিনি।

সহকর্মীদের কাছে কোমল হৃদয় ও কঠোর পরিশ্রমের জন্য তার পরিচিতি ছিল। ফারহান বলেন, ‘মরিয়ম ছিলেন নম্র, দয়ালু ও নিজের কাজের প্রতি গভীর মনোযোগী। তিনি তার মা ও নিজের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী আবু আনাসকে হারিয়েছিলেন, কিন্তু যুদ্ধের মধ্যে একদিনের জন্যও কাজ বন্ধ করেননি।’

গত সোমবার খান ইউনুসে নাসের হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালেই ইসরাইলি হামলায় নিহত হন মরিয়ম। গাজা সরকারি মিডিয়া দপ্তরের তথ্য অনুসারে, ২২ মাসের আগ্রাসনে অবরুদ্ধ এ উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় ২৪৬ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন