যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ঘিরে শেয়ারবাজারে মারাত্মক পতন দেখা দিয়েছে বিশ্বজুড়ে। এর পাশাপাশি তেলেও দামেও রয়েছে উধর্ধগতি। এ প্রেক্ষাপটে জি৭ ভুক্ত দেশগুলোর সোমবার একটি জরুরি বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। বিশেষত অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যাওয়ার পর এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।
বিবিসিরসংবাদে এসেছে, যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভসসহ শীর্ষ শিল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা এই সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে একত্র হবেন।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে পারে। এমন আশঙ্কায় সোমবার বৈশ্বিক তেলের দাম প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে বৃটেনের এফটিএসই ১০০ শেয়ারসূচক ১.৭ শতাংশ কমে লেনদেন শুরু করে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, জি৭ বৈঠকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সমন্বয়ে মজুত থেকে যৌথভাবে তেল ছাড়ার বিষয়টি আলোচনা হতে পারে।
এ অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা বিশ্বের ভোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য দাম আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।
রোববার ইরান ঘোষণা দেয়, সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনিকে মনোনীত করা হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সংঘাত শুরুর এক সপ্তাহের বেশি সময় পরও দেশটিতে কট্টরপন্থীরাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সপ্তাহান্তজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে বিমান হামলা চালায়।
এসব হামলায় তেলের ডিপোসহ একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। অন্যদিকে, ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। রাতের মধ্যে সৌদি আরব জানায়, একটি বড় তেলক্ষেত্রের দিকে আসা দুই দফা ড্রোন তারা প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।
সোমবার সকালে এশিয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২৫ শতাংশের বেশি বেড়ে এক পর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৯.৫০ ডলারে পৌঁছায়। পরে তা নেমে প্রায় ১০৯ ডলারে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডেও একই ধরনের ওঠানামা দেখা যায় এবং এটি প্রায় ১০৪ ডলার দরে লেনদেন হচ্ছিল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

