অস্তিত্ব সংকট হলে অর্ধেক বিশ্বকে সঙ্গে নিয়ে ডুববে পাকিস্তান: আসিম মুনির

অস্তিত্ব সংকট হলে অর্ধেক বিশ্বকে সঙ্গে নিয়ে ডুববে পাকিস্তান: আসিম মুনির

ভারতের বিরুদ্ধে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে পাকিস্তান যদি অস্তিত্বের সংকটে পড়ে, তবে তারা ‘অর্ধেক বিশ্বকে সঙ্গে নিয়ে ডুববে’। খবর দ্য প্রিন্টের।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার টাম্পায় পাকিস্তানি ব্যবসায়ী আদনান আসাদের আয়োজনে গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে এক নৈশভোজে এমন মন্তব্য করেন তিনি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বিদায়ী কমান্ডার জেনারেল মাইকেল কুরিলার একটি বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ফ্লোরিডায় গিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমরা একটি পারমাণবিক শক্তিধর জাতি। যদি আমরা মনে করি আমরা ধ্বংসের দিকে যাচ্ছি, তাহলে পাকিস্তান সঙ্গে অর্ধেক বিশ্বকে সঙ্গে নিয়ে ডুববে।’

তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটি থেকে দেওয়া প্রথম পারমাণবিক হুমকি এটা।

ওই অনুষ্ঠানে আসিম মুনির বলেন, সিন্ধু নদের উপর ভারত বাঁধ দিলে তাও ধ্বংস করবে পাকিস্তান। পেহেলগাম হামলার পর এই চুক্তি স্থগিত করে নয়াদিল্লি। তিনি বলেন, যদি ভারত এই চুক্তি বাতিল করে বাঁধ নির্মাণ করে, তাহলে পাকিস্তান ‘১০টি ক্ষেপণাস্ত্র মেরে তা ধ্বংস করে দেবে’।

দ্য প্রিন্ট জানায়, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস বহন করার অনুমতি ছিল না এবং বক্তৃতার কোনো লিখিত ভাষ্যও প্রচার করা হয়নি। উপস্থিত বেশ কয়েকজন অংশগ্রহণকারীর কাছ থেকে সেনাপ্রধানের বক্তব্য শুনে দ্য প্রিন্ট এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে বলে জানায় সংবাদমাধ্যমটি।

পাকিস্তানের এই সেনাপ্রধান পেহেলগামের ঘটনায় যুদ্ধের ফলে ভারতের ক্ষয়ক্ষতি না প্রকাশ করা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভারতীয়দের উচিত তাদের পরাজয় মেনে নেওয়া।’ তিনি আরো বলেন, যদি ভারত তাদের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রকাশ করে, তবে পাকিস্তানও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জনসমক্ষে আনতে রাজি।

মুনির তার বক্তব্যে সামরিক বাহিনীকে রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘যুদ্ধ যেমন শুধু জেনারেলদের জন্য নয়, তেমনি রাজনীতিও শুধু রাজনীতিবিদদের জন্য নয়।’

এর আগে, মুনিরকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এই আলাপচারিতা পাকিস্তানের গণতন্ত্রপন্থী শক্তিগুলির মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল কারণ এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতিকে কোনও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মাত্র দেড় মাসের মধ্যে তার দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। একে ওয়াশিংটন এবং ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা বলে অভিহিত করেছে পাকিস্তান।

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন