ইসলামাবাদে সম্মেলনে মালালা

গাজার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে ইসরাইল

গাজায় অব্যাহত আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। এ পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা ছাড়িয়ে ৪৬ হাজার। বাস্তুচ্যুত হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। প্রতিনিয়ত ইসরাইলি বোমার আঘাতে ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজার হাজার হাজার বসতবাড়ি অবকাঠোমো। চরম ক্ষুধা আর মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে হাজারো মানুষ। যুদ্ধ অন্যান্য মৌলিক চাহিদার মতো ধ্বংস করেছে এই ভূখণ্ডের সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থাকে।

রোববার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক বিশ্বে মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে একথা জানান শান্তিতে নোবেল জয়ী মালালা ইউসুফজাই।

বিজ্ঞাপন

গত শনিবার শুরু হওয়া এ সম্মেলনে অংশ নেন বিশ্বের কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা। এ সময় তিনি বলেন, ইসরাইল গাজা ভূখণ্ডের স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোমা হামলা চালিয়েছে, ৯০ শতাংশেরও বেশি স্কুল ধ্বংস হয়েছে , প্রাণ বাঁচাতে স্কুল ভবনে আশ্রয় নিয়েছে লাখো বেসামরিক নাগরিক। সেখানেও রেহাই মিলছে না তাদের। রাতের আধারে সেসব স্কুল ভবনে বোমা হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি বর্বর বাহিনী।

সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করে গাজায় ইসরাইলের অব্যাহত আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানিয়ে যাবেন তিনি।

‘এই যুদ্ধে ফিলিস্তিনি শিশুরা তাদের জীবন এবং ভবিষ্যৎ হারিয়েছে। মেয়েদের স্কুলে বোমা হামলা, তাদের পরিবারকে হত্যা করা সব কিছুই একটি কন্যাশিশুর শিক্ষাসহ ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এমনটাই বলেন নোবেলজয়ী মালালা।

একই সঙ্গে তিনি মালালা ইউসুফজাই মুসলিম নেতাদের আফগান তালেবান সরকারকে ‘বৈধতা’ না দেওয়ার এবং নারী ও মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে ‘সত্যিকারের নেতৃত্ব প্রদর্শন’ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী ইউসুফজাই পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। সে সময় ক্ষুব্ধ হয়ে পাকিস্তানি উগ্রবাদীরা তাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেছিল। চিকিৎসার জন্য তাকে নেওয়া হয় ব্রিটেনে। সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফেরেন তিনি। তারপর ১৭ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান তিনি।

২০২৩ তারিখে ৭ অক্টোবর হামাস ইসরাইলে হামলা চালালে একই দিনে গাজায় পাল্টা আক্রমণ চালায় তেল আবিব। হামাসের হামলায় নিহত হয় ১ হাজার ২০৮ জন ইসরাইলি। যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক, জিম্মি করা হয় দুই শতাধিক ইসরাইলিকে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন