চেক প্রজাতন্ত্রে গণমাধ্যমের অর্থায়ন সংস্কারের প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ

চেক প্রজাতন্ত্রে গণমাধ্যমের অর্থায়ন সংস্কারের প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ
ছবি: আলজাজিরা

চেক প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত গণমাধ্যমের অর্থায়নব্যবস্থা পরিবর্তনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাজধানী প্রাগে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক হাজার মানুষ।

বিজ্ঞাপন

রোববারের এ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, সরকারের পরিকল্পনা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত করবে। তারা প্রস্তাবিত আইন প্রত্যাহারের দাবি জানান।

নতুন প্রস্তাবে রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভিশনের জন্য পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া লাইসেন্স ফি বাতিল করে সরকারি বাজেট থেকে অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের আশঙ্কা, এ ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের অর্থায়ন সরকারের নিয়ন্ত্রণের ওপর আরো নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।

প্রস্তাবিত বিলটি দ্রুত সংসদে তোলার উদ্যোগ নেয় ক্ষমতাসীন জোট। শনিবার রাতে বিরল এক ভোটাভুটিতে চেক প্রজাতন্ত্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বিলটি দ্রুত অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় নেওয়ার পক্ষে ভোট দেয়। ক্ষমতাসীন জোটের আইনপ্রণেতারা দ্রুত বিষয়টি উত্থাপন করায় বিরোধী দলগুলোর পক্ষে বিতর্কে অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।

বিলটি এনেছে ধনকুবের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিশের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট। এ জোটে দুটি উগ্রডানপন্থী দলও রয়েছে। তবে আইনটি কার্যকর হতে হলে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের অনুমোদন পেতে হবে। বিরোধী দলগুলো জানিয়েছে, বিলটি পাস হলে তারা সাংবিধানিক আদালতে এর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাবে।

প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের অর্থায়ন প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যেতে পারে। আগামী বছর থেকেই এ কাটছাঁট কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবিলায় কিয়েভকে সহায়তা কমানোর পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন নীতিগত অবস্থানের জন্য বাবিশ ও তার জোট পরিচিত। গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে তাদের অতীতেও নানা সমালোচনামূলক অবস্থান নেওয়ার নজির রয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের কর্মীরা আগামী ৩ নভেম্বর ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। শ্রমিক সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, গির্জা, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংগঠনসহ বিভিন্ন পক্ষ তাঁদের এ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

আগামী ১৫ নভেম্বর প্রাগের লেতনা পার্কেও বিক্ষোভ সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। ১৯৮৯ সালের কমিউনিস্টবিরোধী ‘ভেলভেট বিপ্লবের’ বার্ষিকীর দুই দিন আগে এ সমাবেশ হওয়ার কথা। ওই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে চেক প্রজাতন্ত্রে চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা সর্বাত্মকবাদী শাসনের অবসান ঘটে।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন