ভারতের সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে এত বিতর্ক কেন

ভারতের সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে এত বিতর্ক কেন
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ জোরালো হচ্ছে। প্রায় ১০০ কোটি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগে ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তার দুই সহকর্মীর আপত্তির খবরও সমালোচনা বাড়িয়েছে। তবে বিতর্ক শুধু ভোটার তালিকা ঘিরে নয়; জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা এবং নতুন আইনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সব মিলিয়ে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হয়ে ওঠা জ্ঞানেশ কুমার এখন ভারতের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে।

বিজ্ঞাপন

গত মাসে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন ও অন্যান্য প্রক্রিয়াগত বিষয়ে জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ১০ মাসে তার দুই ডেপুটি অন্তত ১৪টি আনুষ্ঠানিক আপত্তি তুলেছেন। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে সমালোচনা আরো জোরালো হয়।

জ্ঞানেশ কুমারের বয়স ৬২ বছর। উত্তর প্রদেশের একটি সরকারি কলেজ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি নেওয়ার পর ১৯৮৮ সালে তিনি ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষদে (আইএএস) যোগ দেন। কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৬ সালে তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জম্মু ও কাশ্মীরবিষয়ক বিভাগে যোগ দেন। ওই সময় জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে এই আইনের মাধ্যমে বিতর্কিত অঞ্চলটির আধা-স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিল করা হয়।

একই বছর অযোধ্যায় মুঘল আমলের একটি মসজিদ ভেঙে ফেলার স্থানে হিন্দু মন্দির নির্মাণের পথ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উন্মুক্ত হয়। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা একটি দলের প্রধান করা হয় জ্ঞানেশ কুমারকে। মন্দির নির্মাণ তদারকির জন্য ট্রাস্ট গঠনও ছিল ওই দলের কাজের অংশ। চলতি বছর মন্দির নির্মাণের জন্য মানুষের দেওয়া অনুদানের কয়েক মিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে ওই ট্রাস্টের বিরুদ্ধে।

জ্ঞানেশ কুমার ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যান। দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে, জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার ঠিক এক দিন আগে, তাকে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হন। ২০২৩ সালের নতুন আইনের অধীনে নিয়োগ পাওয়া তিনিই প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

ওই আইনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বাছাই কমিটি থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়া হয়। তার পরিবর্তে কমিটিতে যুক্ত করা হয় প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে। কমিটির তৃতীয় সদস্য ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগের বিরোধিতা করেছিলেন তিনি।

২০২৩ সালের আইনটি চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে দুই বিচারপতির একটি বেঞ্চ এ বিষয়ে ভিন্নমত দেন। তারা মামলাটি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানির জন্য বিবেচনার পরামর্শ দেন।

এদিকে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অভিযোগের জেরে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ বাড়ছে। ভোটার তালিকা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া, নির্বাচন কমিশনের ভেতরে তার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি এবং নিয়োগের আইনি কাঠামো—এই তিনটি বিষয়ই তাকে ঘিরে বিতর্কের প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। তবে ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এবং নির্বাচনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তিগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য; এগুলো নিজে থেকেই অনিয়ম প্রমাণ করে না।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...