মিয়ানমারে নতুন সামরিক নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটিতে বেসামরিক মানুষের ওপর সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন ও বিমান হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট (এসিএলইডি)।
সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, মার্চে সামরিক বাহিনীর কমান্ড কাঠামো পুনর্বিন্যাসের পর থেকে জান্তার দমন-পীড়ন আরো তীব্র হয়েছে। নতুন সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে বিশেষায়িত যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে একই লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক বিমান হামলার কৌশল নিয়মিতভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমার গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে কয়েক মিলিয়ন মানুষ।
গত মার্চে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা য়ে উইন উ-কে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন মিন অং হ্লাইং। এর কয়েকদিন পরই বিরোধী দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হন। নতুন সেনাপ্রধানের অধীনে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে বিরল খনিজসম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথসংলগ্ন এলাকায়, সামরিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
এসিএলইডির মতে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে অন্তত এক ডজন গণহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় ৪৫০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যার প্রায় ৪০ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলের শুষ্ক অঞ্চল ‘আনইয়ার’-এ।
প্রতিবেদনে মে মাসের একটি অভিযানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় শত শত জান্তা সেনা প্রাচীন বাগান নগরীর বিপরীতে অবস্থিত মিয়িত চে টাউনশিপে অভিযান চালিয়ে অন্তত ৪০ জনকে হত্যা করে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা রয়টার্সকে জানান। ৩৫ বছর বয়সী এক বাসিন্দা, ইয়ে নাউং, দাবি করেন, প্রায় ৭০০ সেনা শহরে ঢুকে বাসিন্দাদের মালামাল লুট করে, মারধর করে এবং পরে হত্যা করে। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগ যাচাই করতে পারেনি। এসিএলইডির ডেটাবেসে ঘটনাটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং সেখানে অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এসিএলইডি বলেছে, ২০২৬ সালে সামরিক বাহিনীর কৌশলে পরিবর্তন এলেও বেসামরিক মানুষের ওপর দমন-পীড়নের মাত্রা একটুও কমেনি; বরং এর ধরন আরও সংগঠিত ও তীব্র হয়েছে।
এদিকে, মিয়ানমারের রাজনৈতিক রদবদলের পর আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতাও বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মিন অং হ্লাইং ইতোমধ্যে প্রতিবেশী ভারত ও চীন সফর করেছেন। তবে এসিএলইডির আশঙ্কা, সামরিক জান্তা ক্ষমতা আরও সুসংহত করার দিকে মনোযোগ দেওয়ায় নিকট ভবিষ্যতে বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ কমার সম্ভাবনা খুবই কম।
সূত্র: রয়টার্স
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



