টেক্সাসে মসজিদগুলো হয়ে উঠছে ভোটার নিবন্ধনকেন্দ্র, সপ্তাহে নিবন্ধিত হচ্ছেন প্রায় এক হাজার ভোটার। শিক্ষা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ইসলাম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে সক্রিয় হচ্ছেন মুসলিম নেতারা। তবে দলীয় আনুগত্য ও নীতিগত মতপার্থক্যের কারণে মুসলিম ভোটারদের একক রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করা সহজ নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে সংগঠিত হচ্ছেন মুসলিমরা। হিউস্টন শহরের বিভিন্ন মসজিদে চলছে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম। স্থানীয় মুসলিম নেতাদের দাবি, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে প্রায় এক হাজার ভোটারকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই তৎপরতা শুরু হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদিত নতুন সামাজিক শিক্ষা পাঠ্যক্রম নিয়ে বিতর্ক চলছে। মুসলিম মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, এই পাঠ্যক্রমে ইসলামকে অন্যায্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
উচ্চবিদ্যালয়ের বিতর্কিত এই পাঠ্যক্রমে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার কারণ হিসেবে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরিবর্তে ‘উগ্রপন্থি ইসলাম’কে দায়ী করার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের শেখানোর নির্দেশনা রয়েছে। তবে পাঠ্যক্রমটির সমর্থকদের দাবি, পশ্চিমা সভ্যতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও টেক্সাসের প্রতিষ্ঠার ভিত্তি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ এটি।
এই বিতর্ক মার্কিন মুসলিমদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে—রাজনৈতিকভাবে আরো সংগঠিত হলে তারা কি সরকারি নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তার এবং বৈষম্য মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন?
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অভিন্ন উদ্বেগ ও স্বার্থকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী নির্বাচনে ভোটারদের সংগঠিত করা এবং সরকারি নীতিতে প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব গোষ্ঠী ভোটার নিবন্ধন, জনসচেতনতা তৈরি, প্রার্থীদের সমর্থন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের দাবি তুলে ধরার কাজ করে। আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (এআইপ্যাক) মতো সংগঠনগুলো দেখিয়েছে, সুসংগঠিত রাজনৈতিক তৎপরতা কীভাবে দেশটির রাজনৈতিক বিতর্ককে প্রভাবিত করতে পারে।
মুসলিম আমেরিকানদের জন্যও এ ধরনের সংগঠন নির্বাচনী প্রভাব একত্র করা, প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে যেসব নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র, সেখানে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
মুসলিমদের উদ্বেগের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে নাগরিক অধিকার, অভিবাসন, অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে দেশটির অবস্থান।
তবে রাজনৈতিক উপস্থিতি বাড়লেই যে নির্বাচনী ক্ষমতা বাড়বে, তা নিশ্চিত নয়। একইভাবে মুসলিম আমেরিকানরাও কোনো একক রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী নন। তাদের দলীয় আনুগত্য, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নীতিগত অগ্রাধিকারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।
আগামী ৩ নভেম্বর টেক্সাসের ভোটাররা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নির্বাচনে ভোট দেবেন। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের একটি আলোচিত আসন, অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদ এবং প্রতিনিধি পরিষদের সব ৩৮টি আসন।
সিনেটের আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটন, ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো এবং লিবার্টারিয়ান টেড ব্রাউন। অন্যদিকে রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য লড়ছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসা এবং লিবার্টারিয়ান প্যাট ডিক্সন।
এ ছাড়া টেক্সাসের প্রতিনিধি পরিষদের ১৫০টি আসনের সব কটিতে এবং অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ৩১টি আসনের মধ্যে ১৬টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের পদ, শিক্ষা বোর্ডের সদস্যপদ, বিচারক পদ এবং স্থানীয় বিভিন্ন পদেও ভোট হবে।
রাজনৈতিক সংগঠন গড়ার ওপর গুরুত্ব
এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন আমেরিকান মুসলিম ডেমোক্রেটিক ককাসের সহসভাপতি সৈয়দ হাসান।
ককাসটির ২০২৬ সালের জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটি বক্তব্যের কথা স্মরণ করেন। ২০০৪ সালে বোস্টনে ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনে ওবামা বলেছিলেন, ‘কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকা ও শ্বেতাঙ্গ আমেরিকা নেই, উদারপন্থী আমেরিকা ও রক্ষণশীল আমেরিকাও নেই—আছে কেবল যুক্তরাষ্ট্র।’
হাসানের ভাষ্য, সে সময় ক্যামব্রিজের একটি মসজিদে মুসলিম প্রতিনিধিদের ছোট একটি সমাবেশ থেকেই ককাসটি গঠনের ধারণা অনুপ্রাণিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, সংখ্যালঘু ও রাজনৈতিকভাবে কম প্রতিনিধিত্ব পাওয়া জনগোষ্ঠীগুলোর উচিত গণতন্ত্রের অভিন্ন স্বার্থে সংগঠিত হওয়া। তার ভাষায়, ‘আমাদের কৌশল সহজ: আমরা ঐক্যবদ্ধ হব, সংগঠিত হব, ভোট দেব।’
একটি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হলে পরবর্তী সময়ে অন্য কোনো জনগোষ্ঠীও একই পরিস্থিতির শিকার হতে পারে বলে সতর্ক করেন হাসান।
তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনে আমাদের পরিশ্রমী ও সৎ মেক্সিকান এবং লাতিনো ভাই-বোনেরা ছিল আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু। এবার মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। পরেরবার অন্য কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।’
হাসানের এই অবস্থান মুসলিমদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার একটি ধারাকে তুলে ধরে। এই ধারার সমর্থকেরা নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে নির্বাচন ও দলীয় সংগঠনকে কাজে লাগাতে চান। তবে মুসলিম রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক কর্মীদের অনেকে ভিন্ন পথ অনুসরণ করছেন।
পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন ব্যবসায়ী এবং ‘আমেরিকান মুসলিমস ফর ট্রাম্প’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাজিদ তারার ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মুসলিমদের রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন করার আহ্বান জানাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক তারারের যুক্তি, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থ, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি রক্ষায় রিপাবলিকানদের নির্বাচনী কর্মসূচিই সবচেয়ে বেশি সহায়ক।’
বাড়ছে মুসলিম জনসংখ্যা, ভোটারদের মধ্যে বিভক্তি
পিউ রিসার্চ সেন্টারের সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে সব বয়সী মুসলিমের সংখ্যা প্রায় ৫৫ লাখ। ২০০৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ।
এই বৃদ্ধি দেশটিতে মুসলিমদের ধর্মীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতি সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়। তবে শুধু জনসংখ্যা বাড়লেই কতজন মুসলিম ভোট দেওয়ার যোগ্য, কতজন ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত কিংবা নির্বাচনে কতজন ভোট দিতে যাবেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
জাতীয় পর্যায়ে মোট ভোটারের তুলনায় মুসলিমদের অংশ অপেক্ষাকৃত কম। তবে নির্দিষ্ট কিছু শহর ও নির্বাচনী এলাকায় তাদের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় স্থানীয় নির্বাচন এবং হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে তাদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি মুসলিমদের সমর্থনসংক্রান্ত জরিপও তাদের ডেমোক্র্যাটপন্থি হিসেবে এককভাবে বিবেচনা করার ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৩-২৪ সালের ধর্মীয় জীবনবিষয়ক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬ হাজার ৯০৮ জন উত্তরদাতার মধ্যে ১ দশমিক ২ শতাংশ নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ওই গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মুসলিম প্রাপ্তবয়স্কদের ৫৩ শতাংশ ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থক অথবা দলটির প্রতি ঝোঁক রয়েছে বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে ৪২ শতাংশ রিপাবলিকান পার্টির সমর্থক অথবা দলটির প্রতি ঝোঁক থাকার কথা বলেছেন।
অভিবাসন এবং জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের গুরুত্বের মতো বিষয়ে মুসলিম আমেরিকানদের মতামত সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানের কাছাকাছি। তবে পরিবার, যৌনতা ও লিঙ্গপরিচয়সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি রিপাবলিকানদের অবস্থানের সঙ্গে বেশি মেলে। অন্যান্য বিষয়েও মুসলিম সম্প্রদায়ের ভেতরে মতপার্থক্য রয়েছে।
এসব পার্থক্যের কারণে সবার জন্য একটি অভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে। ধর্মীয় পরিচয় কোনো কোনো বিষয়ে সম্মিলিত উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে পারে, কিন্তু একজন মুসলিম ভোটার কোন দলকে ভোট দেবেন, তা শুধু তার ধর্মীয় পরিচয় দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না।
রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্র হয়ে উঠছে টেক্সাস
শিক্ষা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ইসলাম সম্পর্কে জনসাধারণের ধারণাকে ঘিরে বিতর্ক কীভাবে রাজনৈতিক সক্রিয়তা বাড়াচ্ছে, তার একটি উদাহরণ টেক্সাস।
হিউস্টনে মুসলিমদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আরো বেশি সম্পৃক্ত করতে কাজ করছে ইসলামিক সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টন। সংগঠনটির সভাপতি এমরান গাজি গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, শহরটির বিভিন্ন মসজিদে প্রতি সপ্তাহে প্রায় এক হাজার ভোটারকে নিবন্ধনে সহায়তা করছে তাদের সংগঠন।
পাঠ্যক্রম নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি পশ্চিমা মূল্যবোধ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের জন্য শরিয়াহ আইনকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরে কিছু রিপাবলিকান রাজনীতিকের প্রচারণাও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
টেক্সাসের রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ট মানি ‘শরিয়াহ-ফ্রি টেক্সাস ককাস’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য কিথ সেলফ ও চিপ রয় কংগ্রেসে ‘শরিয়াহ-ফ্রি আমেরিকা ককাস’ গঠনে সহায়তা করেছেন।
টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটও দুটি প্রধান বিমানবন্দরে মুসলিমদের অজু করার জন্য ব্যবহৃত স্থাপনা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তার দাবি, এসব স্থাপনা ধর্মীয় সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি প্রশ্ন তৈরি করেছে।
গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বিমানবন্দরগুলোর এসব স্থাপনা নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তের আহ্বান জানান। তবে একটি মুসলিম অধিকার সংগঠন তার এই পদক্ষেপকে ‘মুসলিমবিরোধী রাজনৈতিক লোকদেখানো তৎপরতা’ বলে আখ্যা দেয়।
এসব বিতর্ক টেক্সাসের মুসলিমদের একটি অংশের মধ্যে ভোটার নিবন্ধন ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের উদ্যোগকে আরো জরুরি করে তুলেছে।
তবে টেক্সাসের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। মিশিগান, নিউইয়র্ক, ইলিনয়, নিউ জার্সি, মিনেসোটা ও ভার্জিনিয়ার মুসলিম সম্প্রদায় ভিন্ন নির্বাচনী পরিবেশে কাজ করছে। দেশটির অঙ্গরাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ে মুসলিমরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
পররাষ্ট্রনীতি ও দলীয় আনুগত্যের টানাপোড়েন
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান, মুসলিমদের রাজনৈতিক সংগঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
কিছু মুসলিম ভোটারের কাছে পররাষ্ট্রনীতি একটি মাপকাঠি—প্রার্থীরা তাদের উদ্বেগকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন, তা তারা এর মাধ্যমে বিচার করেন। অন্যদের কাছে অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন, নাগরিক স্বাধীনতা কিংবা সামাজিক বিষয়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এ ধরনের পরস্পরবিরোধী অগ্রাধিকারের কারণে শুধু দলীয় পরিচয় দিয়ে মুসলিমদের রাজনৈতিক প্রভাব পরিমাপ করা কঠিন। কোনো ভোটার অভ্যন্তরীণ নীতির কারণে একটি দলকে সমর্থন করলেও তার পররাষ্ট্রনীতির বিরোধিতা করতে পারেন। আবার কেউ সামাজিক বিষয়ে রক্ষণশীল অবস্থান ধারণ করেও মুসলিমবিরোধী বক্তব্য কিংবা কঠোর অভিবাসন নীতির বিরোধিতা করতে পারেন।
হাসানের মতে, রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে জনপরিসরে আরও কার্যকর কণ্ঠস্বরে পরিণত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
নিজেদের ককাসের সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এখন আমরাই—জনগণ—বিশেষ স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করছি, তারা নয়।’ এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ধনী দাতা ও লবিস্টদের রাজনৈতিক প্রভাবের সমালোচনা করেন এবং আরও সমতাভিত্তিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার আহ্বান জানান।
তবে এই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, তা শুধু ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে না।
ভোটারদের উপস্থিতির হার, নির্দিষ্ট এলাকায় মুসলিমদের জনসংখ্যার ঘনত্ব, অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সঙ্গে জোট গঠন এবং মুসলিম আমেরিকানদের উদ্বেগের বিষয়ে প্রার্থী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাড়া দেওয়ার ওপরও নির্ভর করবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সম্প্রদায় কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

