ভারতে মুসলিম ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষায় সহায়তা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। অযোধ্যায় শতাব্দী প্রাচীন বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বার্ষিকীতে শুক্রবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়। খবর জিও নিউজের।
১৯৯২ সালে হিন্দু উগ্রপন্থি জনতা মসজিদটি ধ্বংস করে দেয়। এরফলে ভারতজুড়ে ব্যাপক দাঙ্গা হয়। এতে মারা যায় দুই হাজার মানুষ, যাদের বেশিরভাগই মুসলমান। হিন্দুরা এই স্থানটিকে রামের জন্মস্থান বলে দাবি করে। ১৫২৮ সালে মুঘল শাসনামলে বাবরি মসজিদ নির্মিত হয়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে মুখপাত্র তাহির আনদ্রাবি বলেন, ‘বাবরি মসজিদ আমাদের সম্মিলিত স্মৃতিতে খোদাই করা আছে। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর, অযোধ্যার এই ঐতিহাসিক মসজিদটি এমন পরিস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়েছিল যা গভীর দুঃখ এবং উদ্বেগের জন্ম দেয়। অসহিষ্ণুতা এবং ধর্মীয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সকলের জন্য এই ঘটনাটি দুঃখজনক।’
পাকিস্তান বলছে, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং পবিত্র স্থানগুলোর সংরক্ষণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ দায়িত্ব। আনদ্রাবি বলেন, ‘মুসলিম ধর্মীয় প্রতীক বা ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে অবমাননা করে এমন সকল কার্যকলাপ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের সঙ্গে মোকাবিলা করা অপরিহার্য।’
আন্দ্রাবি বলেন, পাকিস্তান আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে সম্মান করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মুসলিম ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষার গুরুত্ব স্বীকার করার এবং এই ধরনের বেদনাদায়ক ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধে আহ্বান জানায় পাকিস্তান।’
ভারত সরকারের প্রতি সহনশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তির পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান, যাতে সকল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সমান নাগরিক অধিকার এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা নিশ্চিত করা যায়।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



