ট্রাম্প যুগে আমেরিকা

প্রথম দিনেই নির্বাহী আদেশের ঝড় বইয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার

আমার দেশ ডেস্ক

প্রথম দিনেই নির্বাহী আদেশের ঝড় বইয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার

আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েই নির্বাহী আদেশের ঝড় বইয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি।

এর আগে রোববার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে শপথ-পূর্ব এক র‍্যালিতে সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প অঙ্গীকার করেন, শপথ নেওয়ার পরপরই ‘ঐতিহাসিক গতি ও শক্তিতে’ প্রশাসন পরিচালনা করবেন। দায়িত্বের প্রথম দিন দুশ’র বেশি নির্বাহী আদেশে তিনি স্বাক্ষর করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

র‍্যালিতে ট্রাম্প বলেন, ‘বাইডেন প্রশাসনের সবগুলো একরোখা ও মূর্খ নির্বাহী আদেশকে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমি প্রত্যাহার করব।’

ট্রাম্প বলেন, সোমবার তার নির্বাহী আদেশগুলো অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলা কেন্দ্রিক হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাখ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কার করার প্রতিশ্রুতি বিশাল লজিস্টিক বাধার সম্মুখীন হবে এবং সম্ভবত কয়েক বিলিয়ন ডলারের খরচও হতে পারে। এ ছাড়া ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে দাঙ্গার ঘটনায় দোষী সাব্যস্তদের জন্য ট্রাম্প ক্ষমা ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ওই হামলার নেতৃত্বে তার সমর্থকরাই ছিলেন।

গত বছর নভেম্বরে জোর প্রতিযোগিতার পর নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে হারিয়ে দেন রিপাবলিকান দল থেকে প্রার্থী হওয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে চার বছর আগে নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরলেন ৭৮ বছর বয়সি এই সাবেক প্রেসিডেন্ট।

আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘুষের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হিসেবে শপথ নিয়েছেন ট্রাম্প। গত বছর ৩০ মে নিউইয়র্ক সিটি জুরি তাকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেন।

শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে ওয়াশিংটনে জড়ো হয়েছেন ট্রাম্প সমর্থকরা। রোববার র‌্যালির পর থেকেই তারা রাজধানীতে জড়ো হতে থাকেন। অন্যদিকে শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওয়াশিংটন ডিসিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে জে ডি ভেন্সও শপথ নিয়েছেন। এর আগে ট্রাম্প তার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মনোনয়ন দিয়েছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে পেটে হেগেসথ, অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে পাম বন্ডি, অর্থমন্ত্রী হিসেবে স্কট বেসান্ট, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তামন্ত্রী হিসেবে কিষ্টি নয়েম, জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে ক্রিস ওয়েট, পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে শেন ডাফি, সিআইএ প্রধান হিসেবে জন র‌্যাটক্লিফ, এফবিআই প্রধান হিসেবে কাশ প্যাটেল ও ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্সের ডাইরেক্টর হিসেবে তুলসি গ্যাবার্ড মনোনীত হয়েছেন।

এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানস্থল হিসেবে প্রথা ভেঙে ক্যাপিটল হিলের রোটুন্ডারে বা ভেতরে নির্ধারিত হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ৪০ বছরের মধ্যে শীতলতম আবহাওয়ায় এবারের শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা মাইনাস চার ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাইনাস ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পূর্বাভাস করা হয়েছে।

এদিকে শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে টেক টাইকুন ইলন মাস্ক, জেফ বেজোস, মার্ক জুকারবার্গ ও মিডিয়া মোগল রুপার্ট মারডক উপস্থিত রয়েছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন