নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ

ট্রাম্পের শুল্কে বিপর্যয়ের মুখে ভারতের রপ্তানিকারকরা

ট্রাম্পের শুল্কে বিপর্যয়ের মুখে ভারতের রপ্তানিকারকরা

ভারতের অর্থনীতির বিরাট এক অংশ দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হয়েছে। আগামী ২৭ আগস্ট থেকে নয়াদিল্লির ওপর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে। এর ফলে ভারতের ওপর শুল্কহার দ্বিগুণ হয়ে যাবে। অতিরিক্ত শুল্কের জেরে দাম বেড়ে গেলে ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য কিনতে ক্রেতাদের চাহিদাও কমে আসবে। ফলে ভারতে টিকে থাকা বিভিন্ন বাণিজ্য বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।

ভারতের উত্তর প্রদেশের ভাদোহি জেলার কার্পেট ব্যবসায়ী ইশতিয়াক আহমদ খান বলেন, ‘২৫ শতাংশ শুল্কেই আমরা প্রচণ্ডভাবে ধাক্কা খেয়েছি। এখন কীভাবে এ বিপর্যয় মোকাবিলা ও সমাধান করব, তা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম।’

বিজ্ঞাপন

কার্পেট প্রস্তুতের পারিবারিক ব্যবসায় চতুর্থ প্রজন্মের এ প্রতিনিধি বলেন, ‘কিন্তু এখন ৫০ শতাংশ শুল্কে তা অসম্ভবই হয়ে পড়েছে। আমরা শঙ্কা করছি অনেকেই বেকার হয়ে পড়বেন।’

ভারতে কার্পেট প্রস্তুত একটি বড় ব্যবসা। দেশটিতে কার্পেট প্রস্তুত শিল্পের ৯৮ শতাংশই বিদেশে রপ্তানি হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত তার মোট কার্পেট পণ্যের প্রায় ৬০ ভাগই আমেরিকায় রপ্তানি করেছে। এখন ৫০০ ডলার মূল্যের কার্পেট আমেরিকার আমদানিকারকদের অতিরিক্ত ১২৫ ডলার দিয়ে কিনতে হচ্ছে। যদি অতিরিক্ত নতুন শুল্ক কার্যকর হয় তবে তা ২৫০ ডলারে দাঁড়াতে পারে।

উত্তর ভারতের ‘কার্পেটবেল্টের’ কেন্দ্র ভাদোহি জেলা। ইশতিয়াক আহমদ খানের মতো এখানে হাজার হাজার কার্পেট প্রস্তুতকারী ও ব্যবসায়ীর বাস রয়েছে। নিজেদের পণ্য থেকে কষ্ট করে খুব সামান্যই মুনাফা অর্জন করেন তারা। আমেরিকার ক্রেতারা অতিরিক্ত যে মূল্য দিয়ে এ কার্পেটগুলো কিনবেন, তার সঙ্গে ভাদোহির এ ব্যবসায়ীরা কোনো ভাগ পাবেন না।

ইশতিয়াক আহমদ খানের ধারণা অনুসারে, আমেরিকার নতুন শুল্কের জেরে এ অঞ্চলের প্রায় ২৫ লাখ বাসিন্দার দরিদ্র হয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া ভারতের পোশাক শিল্প, অ্যাকুয়াকালচার ও আসবাবপত্র তৈরিসহ অন্যান্য আরো শিল্প অসহনীয় পতনের মুখোমুখি হতে পারে। যদিও এগুলো খুব শক্তিশালী শিল্প নয়, তবু একত্রে এসব খাতে ভারতের লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। একসঙ্গে সব খাত থেকে উপার্জিত কোটি কোটি মূল্যমানের অর্থ ভারতকে সংকটের সময় অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল রেখেছে।

আমেরিকায় প্রচলিত ওষুধের বড় একটি অংশ যায় ভারত থেকে। ভারতীয় ওষুধের বাজারের বড় এক গ্রাহক দেশটি। কিন্তু ট্রাম্পের শুল্ক এটিকে পুরোপুরি অবহেলার দিকে ঠেলে দিয়েছে। যদিও এখনো ভারতীয় ওষুধ আমদানিতে কোনো শুল্ক দিতে হয় না। তবে ট্রাম্প বলেছেন, শিগগির এর ওপর ১৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা ২৫০ শতাংশে নিয়ে আসা হবে। ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, এর মাধ্যমে আমেরিকায় ওষুধশিল্পের সূচনা হবে।

জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ক্ষেত্রে বিষয়টি এখনো জটিল। যদিও এ খাতকে এখনো শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। তবে রাশিয়া থেকে তেল কেনার দায়ে ভারতের ওপর শাস্তিমূলক অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ ভারতীয় কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্পের প্রাথমিক অভিযোগ ছিল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে এবং এ ঘাটতি কমানোর জন্য ভারত চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এর অংশ হিসেবে আমেরিকা থেকে জ্বালানি পণ্য ও সামরিক সরঞ্জাম কিনছে দেশটি। কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রভাব ভারতের ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের ওপরও পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ শুল্কের জেরে ভারতের রত্ন ও অলংকার শিল্পও ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। গত ৭ আগস্ট যখন ট্রাম্প মোট ৫০ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা দেন, ভারতীয় রত্ন ও অলংকার রপ্তানি উন্নয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কিরিত বানসালি তখন জানিয়েছিলেন, ভারতের রত্নের বৈশ্বিক বাণিজ্যের ৩০ শতাংশই হুমকির মুখে রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন