মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে প্রগতিশীল প্রার্থী আবদুল আল সাইয়েদকে সমর্থন দিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্তেজ।
গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এই সমর্থন ঘোষণা করেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ নেতারা অবশ্য আগে থেকেই চিন্তিত ছিলেন, এই দোদুল্যমান রাজ্যে জয়ের জন্য সাইয়েদ হয়তো প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বামপন্থি।
এক বিবৃতিতে ওকাসিও কর্তেজ বলেন, ‘এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই নির্বাচনী প্রচার দেখার পর এটি স্পষ্ট যে, আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে এই আসনটি ধরে রাখার জন্য আবদুল আল সাইয়েদই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী। তিনি সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে এজেন্ডা তৈরি করে একটি বিজয়ী জোট গড়ে তুলছেন।’
ওকাসিও কর্তেজকে নিয়ে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার গুঞ্জন রয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির বামপন্থার নেতা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের তুলনায় ওকাসিও কর্তেজ এবার প্রার্থী সমর্থনে বেশ বেছে বেছে পা ফেলছেন। গত মাসে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হাউস নির্বাচনে হেরে যাওয়া তার সাবেক চিফ অব স্টাফ সাইকত চক্রবর্তীর পক্ষেও তিনি সমর্থন দেননি। এমনকি গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জোহরান মামদানি সমর্থিত দুই ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট বিজয়ী হলেও ওকাসিও কর্তেজ তাদের পাশে দাঁড়াননি।
আগামী ৪ আগস্ট মিশিগানের এই প্রাইমারি বা দলীয় বাছাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২০১৮ সালে আল সাইয়েদ যখন গভর্নর পদে লড়েছিলেন, তখনও ওকাসিও কর্তেজ তাকে সমর্থন দিয়েছিলেন।
ওকাসিও কর্তেজের এই সমর্থনে গভীর সম্মান প্রকাশ করেছেন আবদুল আল সাইয়েদ। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কংগ্রেসওম্যান ওকাসিও কর্তেজ মার্কিন রাজনীতির গতিপথ বদলে দিয়েছেন। তিনি একটি প্রজন্মকে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন যে সরকার সত্যিই শ্রমজীবী মানুষের জন্য কাজ করতে পারে।’
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প মিশিগানে জিতেছিলেন। এবার কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে এবং এই আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে ডেমোক্রেটিক পার্টির কাছে মিশিগানের এই প্রাইমারি নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লড়াইয়ে আল সাইয়েদ ছাড়াও রয়েছেন মধ্যপন্থি হেইলি স্টিভেন্স।
স্টিভেন্সকে ডেমোক্রেটিক পার্টির মূলধারার নেতারা সমর্থন করছেন। এছাড়া আছেন উদারপন্থি স্টেট সিনেটর ম্যালরি ম্যাকমোরো, যার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন।
সিনেটের মাইনরিটি লিডার চাক শুমার মনে করেন, এই রাজ্যে জেতার সবচেয়ে বেশি সুযোগ রয়েছে হেইলি স্টিভেন্সের। ওয়াশিংটনের কিছু ডেমোক্র্যাট নেতার আশঙ্কা, আল সাইয়েদ প্রাইমারিতে জিতে গেলে নভেম্বরের মূল নির্বাচনে হেরে যেতে পারেন। তবে দলের ভেতরে এল সাইয়েদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। ইতোমধ্যেই তিনি মেরিল্যান্ডের সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনের সমর্থন পেয়েছেন।
এই নির্বাচনে ইসরাইল ইস্যুটি একটি বড় সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। মিশিগানের ডেট্রয়েট ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক আরব-আমেরিকান এবং ইহুদি ভোটার রয়েছেন।
এল সায়েদ ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে একজন 'যুদ্ধাপরাধী' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। গত ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে তিনি 'গণহত্যা' বলে উল্লেখ করেছেন।
অন্য প্রার্থী ম্যাকমোরো গত শরতে একটি নির্বাচনী প্রচারণায় গাজার ঘটনাকে প্রথম 'গণহত্যা' বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে তিনি ভোটারদের বলেছেন, সংজ্ঞার চেয়ে সংকটের 'সমাধান' বেশি জরুরি।
তিনি মনে করেন গাজায় যুদ্ধাপরাধ হয়েছে এবং তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মার্কিন-ইসরাইলপন্থি লবি 'আইপ্যাক'-এর সমর্থন তিনি চাইবেন না।
অন্যদিকে হেইলি স্টিভেন্সের পেছনে আইপ্যাকের সমর্থন রয়েছে। তিনি গাজার সামরিক অভিযানকে 'গণহত্যা' বলার তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
বর্তমানে ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রগতিশীল প্রার্থীদের উত্থান নিয়ে বেশ চাপে রয়েছে। কারণ এই প্রগতিশীলরা বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল আসনে জয়ী হয়েছেন এবং দলের কিছু পুরোনো প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন। মূলধারার ডেমোক্র্যাটরা অবশ্য এই জয়গুলোকে স্রেফ কিছু অতি-উদারপনন্থি এলাকার ঘটনা বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।
গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে প্রগতিশীলদের জয়ের পর হাউসের মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফরিস সিএনএন-কে বলেন, ‘দেশের অন্যতম ব্লু বা ডেমোক্র্যাট-প্রধান একটি শহরের সামান্য কয়েকটি প্রাইমারি নির্বাচনের ফল দিয়ে নভেম্বরের মূল নির্বাচনের হিসাব করা যাবে না। নভেম্বরে আমাদের প্রতিটি আসনে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করা ডেমোক্র্যাটদের জেতাতে হবে, যারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী চরমপন্থি রিপাবলিকানদের রুখে দেবে।’
সূত্র: সিএনএন
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


