আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বিমান ও মিসাইল প্রতিরক্ষা জোরদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বিমান ও মিসাইল প্রতিরক্ষা জোরদার

মধ্যপ্রাচ্যে বিরাট নৌবহর মোতায়েন করেছে আমেরিকা। এর জেরে ইরানে আমেরিকার সামরিক বাহিনীর হামলার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান ও মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে আমেরিকা। রোববার আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

খবরে বলা হয়, প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোতে অতিরিক্ত ‘টার্মিনাল হাই অল্টিচুড এরিয়া ডিফেন্স’ (থাড) ও পেট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। জর্দান, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব ও কাতারের এ ঘাঁটিগুলোকে বিমান এবং মিসাইল হামলা থেকে প্রতিরক্ষার জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে পেট্রিয়ট নিচু দিয়ে উড়ে আসা স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিহত করে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে অল্প কয়েকটি স্থানেই থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে। এ ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থানান্তরের জন্য উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জনশক্তি ও লজিস্টিক সহায়তার প্রয়োজন।

যদিও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি, তবে কর্মকর্তারা বলছেন, আমেরিকা ইরানে সীমিত মাত্রার হামলা চালাতে পারে। কিন্তু এতে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে বিশাল মাত্রার। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরাইলসহ আঞ্চলিক মিত্র ও আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ইরানি হামলা থেকে রক্ষা করতে এ ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল যোগাযোগ করলেও তারা কোনো জবাব দিতে অস্বীকার করে।

এর মধ্যে সংঘাত এড়ানোর জন্য ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনা চলছে। রোববার আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাকচি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত আমরা চুক্তি করতে পারব।’

তিনি বলেন, আলোচনার জন্য আমেরিকার ওপর ইরানের আস্থা নেই। তাই দুই পক্ষের মিত্র দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের জন্য আলোচনা চলছে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি বলেছেন, আমেরিকা যদি ইরানে কোনো হামলা চালায়, তবে তা ‘আঞ্চলিক যুদ্ধের’ জন্ম দেবে। রোববার তেহরানে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ রুহুল্লাহ খোমেনির প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, ‘তাদের জেনে রাখা উচিত এ সময় যদি তারা যুদ্ধ শুরু করে, তবে এটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।’

এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি কেন তা বলবেন না? অবশ্যই তিনি তা-ই বলবেন। তাদের কাছাকাছি আমাদের বিশ্বের বৃহত্তম শক্তিশালী জাহাজগুলো রয়েছে। আশা করি আমরা চুক্তি করতে পারব। তবে চুক্তি না হলে দেখা যাবে তার কথা কতটুকু সঠিক।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন