মুসলিম বিশ্বের তীব্র আপত্তির মুখে বিতর্কিত ঔপন্যাসিক সালমান রুশদির ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ ভারত ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ। ১৯৮৮ সালে রাজীব গান্ধী সরকার ভারতে বইটি বিক্রি নিষিদ্ধ করেন। ৩৬ বছর পর এখন আবারও বইটি ভারতীয় কিছু বইয়ের দোকানে দেখা যাচ্ছে।
ইসলামবিদ্বেষী লেখক সালমান রুশদির এই বই বিক্রিতে প্রবল আপত্তি জানিয়েছে ভারতের বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন।
গত নভেম্বরে দিল্লি হাইকোর্ট ওই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ করার আদেশ দেন। হাইকোর্টের এই নিষেধাজ্ঞা বাতিলের নির্দেশের পর সম্প্রতি দিল্লিতে বইটি বাজারে এসেছে।
এদিকে আদালতের এই আদেশের প্রতিবাদ জানিয়েছে অল ইন্ডিয়া ভারত মজলিশ-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনসহ (এআইএমআইএম)বেশ কয়েকটি মুসলিম সংগঠন। তারা সালমান রুশদির বিতর্কিত বই ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ ভারতীয় বইয়ের দোকানে ফিরে আসার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বইটির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের আবেদন জানিয়েছে।
মুম্বাইয়ের সাবেক এআইএমআইএম বিধায়ক ওয়ারিশ পাঠান বইটির ফিরে আসাকে উস্কানিমূলক কাজ বলে অভিহিত করে অতীতের প্রতিবাদগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি নিষিদ্ধ বই বাজারে আসায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেন, রামগিরি মহারাজের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যিনি হযরত মোহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। এখনো তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।’
১৯৮৮ সালে প্রকাশিত রুশদির উপন্যাস ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ বিশ্বব্যাপী প্রবল বিতর্কের জন্ম দেয়। বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ। বিক্ষোভ আর সহিংসতার মধ্যে বহু দেশে বইটি নিষিদ্ধ করে, রুশদির জন্মস্থান ভারতের সরকারই প্রথম সেই সিদ্ধান্ত নেয়।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি সে সময় এই লেখক সালমান রুশদির মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া দেন। রুশদির মাথার দাম ঘোষণা করেন ৩০ লাখ ডলার। ইরানের সেই ঘোষণা এখনও বহাল আছে। পরে সরকার সমর্থিত একটি ধর্মীয় ফাউন্ডেশন ২০২১ সালে পুরস্কারের ওই অংকের সঙ্গে আরও ৫ লাখ ডলার যোগ করার ঘোষণা দেয়।
ভারতের একটি মুসলিম পরিবারে জন্ম হলেও রুশদি নিজেকে একজন নিরীশ্বরবাদী হিসেবেই পরিচয় দেন। ২০২২ সালের আগস্টে নিউইয়র্কে বক্তব্য রাখার সময় মঞ্চে হামলার শিকার হন তিনি। ওই হামলায় একটি চোখে দৃষ্টিশক্তি হারান তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

