মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি উচ্চমাত্রার সামরিক বাজেট প্রস্তাব করেছেন, যা ২০২৬ সালের অনুমোদিত ৯০১ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ৬৬ শতাংশ বেশি। সামা টিভির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তিনি এই উদ্যোগকে ‘ড্রিম মিলিটারি’ গঠনের পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেন, যা সংকটময় সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে বলে তার দাবি।
তবে এই বিপুল বাজেট কার্যকর করতে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। যদিও সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তবু বাজেট বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় ব্যয় অনুমোদন করানো কঠিন হতে পারে।
ট্রাম্পের বক্তব্য, বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত শুল্ক বা ট্যারিফ থেকে অর্জিত রাজস্ব দিয়েই এই অতিরিক্ত ব্যয় মেটানো সম্ভব। তবে নিরপেক্ষ থিঙ্ক ট্যাংকগুলোর হিসাব বলছে, বর্তমান শুল্ক আয়ে এই ব্যয়ের সর্বোচ্চ অর্ধেকই মেটানো যাবে, ফলে জাতীয় ঋণ কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে একই ঘোষণায় ট্রাম্প প্রতিরক্ষাশিল্পের বড় কোম্পানিগুলোর সমালোচনা করেন। অস্ত্র উৎপাদনে ধীরগতির অভিযোগ তুলে তিনি জানান, উৎপাদন না বাড়ানো পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান লভ্যাংশ বিতরণ বা শেয়ার বাইব্যাক করতে পারবে না। তবে বাজার বন্ধের পর লেনদেনের এই খবরে লকহিড মার্টিন ও জেনারেল ডায়নামিক্সসহ বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা এবং ভেনেজুয়েলা ও গ্রিনল্যান্ড সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই বাজেট প্রস্তাবকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এসআর/এসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

