আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

পালানো নানদের জন্য গির্জার কঠোর শর্ত, ক্ষুব্ধ সমর্থকরা

আতিকুর রহমান নগরী

পালানো নানদের জন্য গির্জার কঠোর শর্ত, ক্ষুব্ধ সমর্থকরা
ছবি সংগৃহীত।

অস্ট্রিয়ায় কেয়ার হোম থেকে পালিয়ে কনভেন্টে (নানদের থাকার স্থান) ফিরে এসেছিল ৮০–এর দশকের তিন নান। গির্জার নির্দেশনাকে অমান্য করায় বিশ্বজুড়ে সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে এই নানদের গল্প। তবে গির্জার কর্তৃপক্ষ তাদেরকে বেশ কিছু কঠোর শর্তে কনভেন্টে থাকার অনুমতি দিয়েছে, এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন তাদের সমর্থকরা।

এই, সন্ন্যাসিনীরা ছিলেন তিন বোন- রিতা (৮২), রেজিনা (৮৬) এবং বার্নাডেট (৮৮)। গির্জার সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেয়ার হোম থেকে পালিয়েছিলেন তারা, পরবর্তীতে সমর্থকদের সহায়তায় সালজবার্গের কাছে এলসবেথেনের গোল্ডেনস্টাইন ক্যাসেলে নিজেদের পুরনো কনভেন্টে ফিরে আসেন।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, নানদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাইখার্সবার্গ অ্যাবের প্রোভোস্ট, মার্কাস গ্রাসল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে এসেছেন যে, তাদের শারীরিক অবস্থা দুর্বল। তাই তাদের ক্যাথলিক কেয়ার হোমেই থাকা উচিত। তবে এসময় তিনি তাদের আনুগত্যের শপথ ভঙ্গের অভিযোগও তোলেন। শুক্রবার গির্জা কর্মকর্তারা জানান, নানেরা আপাতত কনভেন্টে থাকতে পারবেন এবং গ্রাসল একটি সমঝোতার প্রস্তাব পেশ করেছেন।

এএফপি’তে এসেছে, প্রস্তাবে কনভেন্টে থাকার শর্ত হিসেবে নানদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করা, গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ না করা এবং তাদের পক্ষে কাজ করা আইনজীবীদের বরখাস্ত করার কথা বলা হয়েছে। গির্জা কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—তারা নানদের চিকিৎসা ও নার্সিং সহায়তা দেবে এবং একজন পুরোহিত আধ্যাত্মিক সহায়তাও প্রদান করবেন। তবে তাদের স্বাস্থ্য আরো খারাপ হলে বা কনভেন্টে যথাযথভাবে দেখাশোনা সম্ভব না হলে, নিকটবর্তী কেয়ার হোমে স্থানান্তরের বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে।

তবে, নানদের সমর্থকরা এই প্রস্তাবকে ‘একতরফা’ এবং গির্জার শ্রেণিবিন্যাসের ‘চাপ প্রয়োগের চেষ্টা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিন বোনই আইনি কারণে চুক্তিতে স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে, স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গ্রাসল সাম্প্রতিক সপ্তাহে তাদের জন্য প্রদত্ত প্রায় ৬৪,০০০ ইউরোর সামাজিক কল্যাণ ভাতা ফেরত দিয়েছেন।

ফিরে আসার পর থেকে সন্ন্যাসিনীরা অসংখ্য সমর্থককে কনভেন্টে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের দৈনন্দিন জীবনের ভিডিওগুলো ইনস্টাগ্রামে লাখ লাখ অনুসারীরা পছন্দ করেছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন