কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সোমবার সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে বিরোধীদের প্রতিবাদ পদযাত্রায় অংশ নেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সংবিধান ও গণতন্ত্রের ‘হত্যাকারীদের’ বিরুদ্ধে প্রত্যেকেই রুখে দাঁড়াবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী এই কর্মসূচিতে সমর্থন জানানো ‘লক্ষ লক্ষ’ মানুষ, বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার নেতারা এবং কংগ্রেস ও তাদের সহযোগী দলগুলোর কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ, সরকারকে আমাদের দেখানো প্রয়োজন ছিল যে ভারতের মানুষকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। আপনারা আমাদের পরাজিত করতে পারবেন না, হুমকি দিতে পারবেন না, ভয় দেখাতে পারবেন না। আমাদের ওপর জোর খাটানো আমরা মেনে নেব না।’ কেন্দ্রীয় সরকারকে লক্ষ্য করে তিনি এসব কথা বলেন।
সপ্তাহান্তে প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলা চালানোর জন্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে গুন্ডা পাঠানোর অভিযোগও তোলেন রাহুল। তিনি বলেন, ‘পরশু যারা তরুণদের মারধর করছিল, সেই আরএসএসের কাপুরুষরা কোথায় ছিল, তা আমি ভাবছিলাম। তারা কোথায় ছিল? কারণ, আমি তাদের কাউকে দেখিনি।’
রাহুল আরো বলেন, ‘আপনারা আপনাদের ছোট ছোট গেরুয়া স্কার্ফ পরে বাইরে বেরিয়ে এসে দেখুন, কী হয়। কারণ, আপনারা মূলত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মতোই দাদাগিরি করেন। আপনারা সামনে দাঁড়িয়ে মোকাবিলা করতে পারেন না। লড়াই করার জন্য শুধু ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারেন।’
রাহুল গান্ধী জোর দিয়ে বলেন, এখানে আলাদা আলাদা কোনো প্রতিবাদ হচ্ছে না; বরং সবাই একসঙ্গে একটি আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংবিধানের এই হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে, আমাদের গণতন্ত্রের এই হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রত্যেকেই রুখে দাঁড়াবেন। আর আমরা পিছিয়ে যাব না।’
এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেন, ‘নাগরিক সমাজের যেসব সংগঠন এখানে এসেছে এবং আমাদের সমর্থন জানিয়েছে, তাদের সবাইকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। আপনাদের সমর্থনকে আমরা মূল্য দিই, আপনাদের সবাইকে আমরা ভালোবাসি। ভারতের ধারণা, সংবিধানের আদর্শ এবং আমাদের গণতন্ত্র রক্ষায় রাজপথে নেমে আসার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’
রাহুল আরো বলেন, ‘রাজপথে নেমে আসা প্রত্যেক মানুষের জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত। সবাইকে ধন্যবাদ।’ এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ পদযাত্রায় অংশ নিতে সবার প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী।
এদিকে কক্রোচ জনতা পার্টির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস জন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের মর্যাদা থেকে বাদ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করে জানান, তারা এই ‘খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত’ মেনে নেবেন না।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


