২০২৫ সালকে কেউ যদি যুদ্ধের বছর বলে, তাহলে তা খুব বেশি বাড়িয়ে বলা হবে না। পুরো বছরই সারা বিশ্বের কোথাও না কোথাও সংঘাত লেগেই ছিল। অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত ছিল। সমাধান হয়নি ইউক্রেন-রাশিয়ার সংঘাতও।
এছাড়া পাকিস্তান-ভারত ও ইসরাইল-ইরানের মধ্যে প্রচণ্ড আকারে বছরের মাঝামাঝি সময়ে যুদ্ধ বাধে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াও এর বাইরে ছিল না। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সীমান্তে দুই দফায় সংঘর্ষ হয়। এছাড়া আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে থেমে থেমে সংঘাত হয়েছে। সংক্ষেপে ২০২৫ সালে সংঘটিত সারা বিশ্বের সংঘাতগুলো এখানে তুলে ধরা হলো।
ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের পেহেলগামে ২২ এপ্রিল বন্দুকধারীদের গুলিতে ২৬ জন নিহত হওয়ার জেরে ৬ মে রাতে পাকিস্তানে বিমান ও মিসাইল হামলা শুরু করে ভারত। ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের নামে পাকিস্তানের কাশ্মীর ও পাঞ্জাবে প্রচণ্ড হামলা শুরু করে নয়াদিল্লি। হামলা প্রতিহত করতে ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ নামে অভিযানের ঘোষণা দেয় ইসলামাবাদ। চার দিনের যুদ্ধে ভারতের ছয়টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে পাকিস্তান। অবশ্য ভারতের পক্ষ থেকে তা স্বীকার করা হয়নি। চার দিনের যুদ্ধের পর ১০ মে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তার মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ‘পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রকল্প’ হিসেবে নিয়মিতই জাতিসংঘের মঞ্চে প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
২০২৫ সালের ১৩ জুন ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ইরানে আকস্মিক হামলা শুরু করে। তেল আবিবের হামলায় ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মুহাম্মদ বাকেরি ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল হুসাইন সালামিসহ ২০ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। একই সঙ্গে দেশটির ৯ পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যা করে ইসরাইল। ‘অপারেশন রাইজিং সান’ নামের এ আগ্রাসনের মাধ্যমে ইরানের সামরিক-বেসামরিক সব ধরনের স্থাপনাতেই হামলা চালায় তেল আবিব।
ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে ‘ওয়াদায়ে সাদেক-৩’ অভিযান শুরু করা হয়। ২৩ জুন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, দুই দেশ যুদ্ধবিরতি করতে সম্মত হয়েছে। ২৪ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
পূর্ব ইউরোপে ২০২২ সালে শুরু হওয়া ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের তিন বছর পেরিয়েছে। সংঘাত বন্ধের জন্য গত বছর পুরো সময়টাই মধ্যস্থতা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
যুদ্ধের আগুন থেকে বাইরে থাকেনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াও। দীর্ঘদিন ধরেই থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত বিবাদ চলে আসছে। এর জেরে ২০২৫ সালের জুলাই ও ডিসেম্বরে দুই দফা দেশ দুটির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। প্রথম দফায় ২৪ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই এবং দ্বিতীয় দফায় ৮ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর।
এছাড়া আফ্রিকার সুদানে গৃহযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। লেবানন, সিরিয়ায়ও ইসরাইল হামলা চালিয়েছে। সীমান্ত সংঘর্ষ হয়েছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে। ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে আমেরিকাও যেন হামলার ছক কষছে। নতুন বছরে সারা বিশ্বের আরো ভিন্ন ভিন্ন স্থানে যুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে।
এসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

