যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির হিলটন হোটেলে শনিবার রাতে গুলির ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এই হোটেলে এধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়, এর আগে একই স্থানে প্রাণঘাতী হামলার শিকার হয়েছিলেন আরেক প্রেসিডেন্ট।
১৯৮১ সালের ৩০ মার্চ, যুক্তরাষ্ট্রের ৪০তম প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান এই হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় হামলার শিকার হন। সেই সময় জন হিঙ্কলি জুনিয়র নামে এক ব্যক্তি তাকে গুলি করেন। রোনাল্ড রিগান প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির তথ্য অনুযায়ী, সেদিন তিনি প্রায় ৫ হাজার এএফএল-সিআইও সদস্যের সামনে বক্তব্য দিয়ে বের হচ্ছিলেন।
হামলাকারী হিঙ্কলি ২২ ক্যালিবার রিভলভার থেকে ছোড়া গুলির একটি লিমুজিন থেকে প্রতিফলিত হয়ে রিগানের বাম বগলের নিচে লাগে। এতে তার ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শরীরে গুরুতর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ওই ঘটনায় প্রেস সেক্রেটারি জেমস ব্র্যাডি, সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট টিমোথি ম্যাকার্থি এবং পুলিশ কর্মকর্তা টমাস ডেলাহান্টিও আহত হন।
প্রথমে বিষয়টি স্পষ্ট না হলেও পরে জানা যায়, রিগান নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। দ্রুত তাকে জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং অস্ত্রোপচারের প্রায় ১২ দিন পর তিনি হোয়াইট হাউসে ফেরেন।
চার দশক পর একই হোটেলে আবারও গুলির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এবার একজন বন্দুকধারী শটগান নিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা করে এবং একজন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে জানায় তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
তবে এজেন্টের সুরক্ষামূলক পোশাক থাকায় তিনি অক্ষত থাকেন। ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।
রিগানের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, একই স্থানে ভিন্ন সময়ের দুই প্রেসিডেন্টই ভয়াবহ নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছিলেন, যার মধ্যে রিগানের ঘটনা ইতিহাসে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়ে গেছে আর ট্রাম্পের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

