নিউইয়র্ক পুনর্গঠনে জোহরান মামদানির নতুন রাজনীতি

নিউইয়র্ক পুনর্গঠনে জোহরান মামদানির নতুন রাজনীতি
জোহরান মামদানি।

নিউইয়র্কের রাজনীতিতে জোহরান কোয়ামে মামদানির উত্থান শুধু একজন তরুণ রাজনীতিকের ক্ষমতায় আরোহণের ঘটনা নয়; এটি বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল মহানগরের অর্থনৈতিক বৈষম্য, আবাসনসংকট, অভিবাসী অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার সূচনা করেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি নিউইয়র্ক সিটির ১১২তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। ৩৪ বছর বয়সে মেয়র হওয়া মামদানি নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম ও প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে তিনিই শহরটির সর্বকনিষ্ঠ মেয়রদের একজন।

তার রাজনীতির বিশেষত্ব হলো, তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোকে বিচ্ছিন্ন কোনো অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখেন না; বরং আবাসন, গণপরিবহন, শিশু পরিচর্যা, খাদ্য, শ্রমিকের মজুরি এবং স্বাস্থ্যসেবাকে নাগরিকের মৌলিক অর্থনৈতিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথা বলেন। নিজেকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মামদানি মনে করেন, বিশ্বের অন্যতম ধনী শহরে বসবাস করেও সাধারণ মানুষ যদি বাড়িভাড়া, যাতায়াত ও সন্তানের পরিচর্যার ব্যয় মেটাতে গিয়ে বিপর্যস্ত হয়, তাহলে শহরের সমৃদ্ধির প্রকৃত সুফল সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

তার রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে একটি প্রশ্ন—একটি শহর কি শুধু বিনিয়োগকারী, সম্পত্তির মালিক, বড় ব্যবসায়ী ও উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য, নাকি শ্রমিক, অভিবাসী, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার এবং সাধারণ নাগরিকের জন্যও সমানভাবে বসবাসযোগ্য হওয়া উচিত?

মামদানির রাজনীতি এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ, সামাজিক বিনিয়োগ, জনকল্যাণমূলক পরিষেবা এবং সম্পদের অধিকতর ন্যায্য বণ্টনের মধ্য দিয়ে। তবে তার প্রস্তাবগুলোর অর্থনৈতিক বাস্তবতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে।

উগান্ডা থেকে নিউইয়র্ক: পরিবার, পরিচয় ও বেড়ে ওঠা

জোহরান কোয়ামে মামদানির জন্ম ১৯৯১ সালের ১৮ অক্টোবর উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায়। তার বাবা অধ্যাপক মাহমুদ মামদানি একজন সুপরিচিত উগান্ডান-ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তার মা মীরা নায়ার আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত চলচ্চিত্র নির্মাতা। পরিবারের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ তার চিন্তার বিকাশে ভূমিকা রেখেছে।

মামদানি সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। নিউইয়র্কের কুইন্সে তার বেড়ে ওঠা। তিনি ব্রঙ্কস হাইস্কুল অব সায়েন্সে পড়াশোনা করেন এবং মেইনের বাউডইন কলেজ থেকে আফ্রিকানা স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কলেজজীবনে তিনি ফিলিস্তিনপন্থি ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং প্রতিষ্ঠানটিতে স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন শাখা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন।

২০১৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। তার পারিবারিক পরিচয়ে ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতার সমন্বয় রয়েছে। এই বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক বক্তব্যে অভিবাসন, বর্ণবৈষম্য, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

তবে তার রাজনৈতিক দর্শনকে কেবল মুসলিম পরিচয় বা অভিবাসী পরিবারের সন্তান হওয়ার অভিজ্ঞতা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। তার চিন্তার প্রধান ভিত্তি গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র, শ্রমিকের অধিকার, আবাসন ন্যায়বিচার এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা।

রাজনীতিতে প্রবেশ: আবাসন সংকটের মাঠ থেকে আইনসভায়

মামদানির রাজনীতিতে আসার পেছনে একটি প্রত্যক্ষ সামাজিক অভিজ্ঞতা কাজ করেছে। কলেজ শেষ করার পর তিনি নিউইয়র্কের কুইন্সে একটি প্রতিষ্ঠানে ফোরক্লোজার প্রতিরোধ ও আবাসনসংক্রান্ত পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। বাড়ির ঋণ পরিশোধ করতে না পারা, ব্যাংকের কাছে বাড়ি হারানোর ঝুঁকি, উচ্ছেদ এবং আবাসনসংকটে থাকা নিম্ন আয়ের পরিবারের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তিনি শহরের অর্থনৈতিক বৈষম্যের বাস্তব চিত্র দেখেন।

এই অভিজ্ঞতা তাকে বুঝতে সাহায্য করে যে আবাসন শুধু ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা বাজারের পণ্য নয়; এটি মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা, পরিবার এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তার রাজনৈতিক সক্রিয়তার অন্যতম ভিত্তি এখানেই।

২০২০ সালে তিনি নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির ৩৬তম নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত হন। তার নির্বাচনী এলাকার মধ্যে কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া ও আশপাশের অঞ্চল রয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে দীর্ঘদিনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজনীতিক আরাভেলা সিমোটাসকে পরাজিত করে তিনি আলোচনায় আসেন।

অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় তার কাজের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ছিল আবাসন, গণপরিবহন, শ্রমিক অধিকার, জ্বালানি ও পরিবেশনীতি। নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্সের সঙ্গে কাজ করে বিপুলসংখ্যক ট্যাক্সিচালকের ঋণসংকট মোকাবিলায় তিনি ভূমিকা রাখেন। ট্যাক্সিচালকদের ঋণ পুনর্গঠনের উদ্যোগে ৪৫ কোটি ডলারের বেশি ঋণ-সুবিধা বা দায় লাঘবের ব্যবস্থা তৈরির সঙ্গে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যুক্ত ছিল।

অ্যাস্টোরিয়ায় নতুন ফ্র্যাকড গ্যাসবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কন এডিসনের বিরুদ্ধে স্থানীয় আন্দোলন এবং গণপরিবহন উন্নয়নের দাবিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। এমটিএর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগে ১০টি সাবওয়ে লাইনে পরিষেবা বাড়ানোর জন্য ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের অর্থায়ন এবং ভাড়াবিহীন বাস চলাচলের পরীক্ষামূলক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও তার ভূমিকার কথা বিভিন্ন জীবনী ও রাজনৈতিক প্রোফাইলে উল্লেখ রয়েছে।

এই পর্যায়ের অভিজ্ঞতা তার রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে: তিনি শুধু আইনসভায় বক্তৃতা বা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি; শ্রমিক সংগঠন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং নাগরিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলেছেন।

গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র: তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি

মামদানির রাজনৈতিক দর্শন বোঝার জন্য প্রথমে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের ধারণাটি বোঝা প্রয়োজন। সমাজতন্ত্রের বিভিন্ন ধারা থাকলেও গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র সাধারণত নির্বাচনী গণতন্ত্র, নাগরিক স্বাধীনতা ও বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে থেকে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, জনকল্যাণমূলক পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পদের ওপর জনস্বার্থের প্রভাব বাড়ানোর কথা বলে।

মামদানি নিজেই বলেছেন, তার কাছে সমাজতন্ত্রের অর্থ হলো মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা ও সুযোগ রাষ্ট্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করা। তার রাজনৈতিক চিন্তায় আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পুষ্টি, শিশু পরিচর্যা ও জ্বালানিকে শুধু বাজারে কেনাবেচার পণ্য হিসেবে দেখার প্রবণতার বিরোধিতা রয়েছে।

তার দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি বাজারব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিলোপের কথা বলেন না; বরং বাজারের সীমাবদ্ধতা ও একচেটিয়া ক্ষমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং জনকল্যাণমূলক বিনিয়োগের পক্ষে অবস্থান নেন। তার কাছে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা শুধু আয় করার স্বাধীনতা নয়, বরং আয়ের অভাবে মৌলিক জীবনযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হওয়ার নিশ্চয়তাও।

এই চিন্তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল রাজনীতির কয়েকটি ধারার মিল রয়েছে। বার্নি স্যান্ডার্সের সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, শ্রমিক অধিকার ও ধনীদের ওপর অধিক কর আরোপের কর্মসূচির সঙ্গে মামদানির রাজনৈতিক অবস্থানের মিল দেখা যায়। তবে মামদানি নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলেছেন প্রধানত নগরজীবনের সংকট—বাড়িভাড়া, গণপরিবহন, শিশু পরিচর্যা, খাদ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়—এসবকে সামনে রেখে।

তার রাজনীতির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, প্রচলিত রাজনৈতিক ভাষার পরিবর্তে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাকে সরাসরি সামনে আনা। অর্থনৈতিক তত্ত্বের জটিল পরিভাষার বদলে তিনি বলেন, একজন কর্মজীবী মানুষ কেন তার বেতনের বড় অংশ বাড়িভাড়া দেবেন, কেন একটি পরিবার সন্তানের পরিচর্যার খরচ বহন করতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হবে, কিংবা কেন গণপরিবহনে যাতায়াতও ক্রমশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে?

এই ভাষা তার রাজনৈতিক যোগাযোগকে সহজ করেছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সংকটকে নির্বাচনী রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

আবাসন: বাড়ি কি পণ্য, নাকি মানুষের মৌলিক অধিকার?

নিউইয়র্কের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি আবাসন। শহরটিতে বাড়িভাড়া অত্যন্ত বেশি, আবাসনের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বহু পরিবার নিজেদের বসবাসের এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

মামদানির রাজনৈতিক দর্শনে আবাসন একটি কেন্দ্রীয় বিষয়। তিনি মনে করেন, শহরের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন সেখানে কর্মরত সাধারণ মানুষও বসবাসের সামর্থ্য রাখবেন।

তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত প্রায় দশ লাখ আবাসনের ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধ করা। নিউইয়র্কের ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত বাড়িগুলোতে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বসবাস করেন। এই ব্যবস্থায় বাড়িওয়ালারা ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়াতে পারেন না; নির্দিষ্ট নিয়ম ও রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারিত হয়।

মামদানি এই বোর্ডের মাধ্যমে ভাড়া বৃদ্ধি শূন্যে নামিয়ে আনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে মেয়র এককভাবে এ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত কাঠামো অনুসরণ করতে হয়।

এ ছাড়া আগামী দশ বছরে দুই লাখ নতুন স্থায়ী সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ এবং আরও দুই লাখ বিদ্যমান সাশ্রয়ী আবাসন সংরক্ষণের লক্ষ্য তার প্রশাসনের আবাসন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৬ মে প্রকাশিত ‘ব্লক বাই ব্লক’ আবাসন পরিকল্পনায় বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে বিধিবিধান প্রয়োগ জোরদার, সরকারি আবাসন উন্নয়ন এবং ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষার বিষয়গুলোও রাখা হয়েছে।

এখানে তার দর্শনের বিশেষত্ব হলো, তিনি শুধু বাড়ি নির্মাণের পরিমাণ বাড়াতে চান না; বরং কারা সেই বাড়িতে বসবাস করতে পারবেন, কী মূল্যে পারবেন এবং দীর্ঘমেয়াদে বাড়িগুলো সাশ্রয়ী থাকবে কি না—এসব প্রশ্নকেও গুরুত্ব দেন।

তবে এই নীতির অর্থনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, দীর্ঘদিন ভাড়া নিয়ন্ত্রণের ফলে বাড়িওয়ালাদের বিনিয়োগের আগ্রহ কমে যেতে পারে, নতুন আবাসন নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণে অর্থ ব্যয়ের প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের যুক্তি, ভাড়াটিয়াদের তাৎক্ষণিক সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি আবাসন সরবরাহ বাড়ানোকে পরস্পরের বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দুটিই প্রয়োজন।

বিনামূল্যে বাস: গণপরিবহনকে নাগরিক অধিকারে পরিণত করার চেষ্টা

মামদানির অন্যতম আলোচিত প্রতিশ্রুতি হলো নিউইয়র্কের বাসসেবা বিনা মূল্যে চালু করা এবং একই সঙ্গে বাসের গতি ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো।

নিউইয়র্কের গণপরিবহনব্যবস্থা শহরের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও অন্যান্য গন্তব্যে যাতায়াত করেন। গণপরিবহনের ব্যয় বাড়লে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর তার প্রভাব বেশি পড়ে।

মামদানির যুক্তি, একজন শ্রমিকের কর্মস্থলে পৌঁছানোর জন্য যাতায়াতের খরচ যদি তার আয় থেকে উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়ে নেয়, তাহলে শহরের অর্থনৈতিক সুযোগ সবার জন্য সমান থাকে না। তাই বিনামূল্যে বাস চালু করা কেবল পরিবহননীতি নয়; এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারেরও অংশ।

তার প্রস্তাব বাস্তবায়নে বছরে আনুমানিক ৮০ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে বলে তিনি প্রচারণার সময় উল্লেখ করেছিলেন। এই অর্থের জন্য নগর ও অঙ্গরাজ্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ নিউইয়র্কের গণপরিবহন কর্তৃপক্ষ এমটিএর অর্থায়ন ও পরিচালনায় অঙ্গরাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তার পূর্ববর্তী আইনপ্রণেতা জীবনে ভাড়াবিহীন বাসের পরীক্ষামূলক কর্মসূচি নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ওই পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে যাত্রীসংখ্যা ৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি এবং বাসচালকদের ওপর হামলার ঘটনা প্রায় ৪০ শতাংশ কমার তথ্য তার রাজনৈতিক জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিনামূল্যে বাস চালু করা এবং দ্রুতগতির বাসব্যবস্থা তৈরি করা দুটি পৃথক প্রশাসনিক কাজ। শুধু ভাড়া তুলে দিলেই যানজট, বাসের ধীরগতি কিংবা নির্ধারিত সময়ে বাস না পাওয়ার সমস্যা দূর হবে না। এজন্য পৃথক বাস লেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং এমটিএর সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন।

সর্বজনীন শিশু পরিচর্যা: পরিবারকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দেওয়া

মামদানির নির্বাচনী কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সর্বজনীন শিশু পরিচর্যা। নিউইয়র্কে শিশুদের পরিচর্যার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় অর্থনৈতিক বোঝা। বিশেষ করে যেসব পরিবারে মা-বাবা উভয়েই চাকরি করেন, তাদের ক্ষেত্রে সন্তানের দেখাশোনার ব্যবস্থা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি ছয় সপ্তাহ বয়স থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য বিনা মূল্যে সর্বজনীন পরিচর্যা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেন। তার যুক্তি, শিশু পরিচর্যার ব্যয় কমানো হলে পরিবারগুলোর হাতে অর্থ থাকবে, কর্মজীবী অভিভাবকদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়বে এবং শিশুদের প্রাথমিক বিকাশের সুযোগ উন্নত হবে।

এটি শুধু সামাজিক কল্যাণের কর্মসূচি নয়; অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। কারণ শিশুর জীবনের প্রথম কয়েক বছর ভাষা, সামাজিক দক্ষতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের ভিত্তি তৈরি করে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার প্রশাসন দুই বছর ও তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য সর্বজনীন পরিচর্যা সম্প্রসারণে অর্থায়ন নিশ্চিত করার কথা জানায়। তবে ছয় সপ্তাহ থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশুর জন্য সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে পরিচর্যা নিশ্চিত করা এখনো একটি বৃহত্তর লক্ষ্য; সব বয়সের জন্য তা বাস্তবায়িত হয়েছে—এমন দাবি করা যাবে না।

নগরীর নিজস্ব মুদি দোকান: বাজারে রাষ্ট্রের বিকল্প ভূমিকা

মামদানির সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত অর্থনৈতিক প্রস্তাবগুলোর একটি হলো শহরের মালিকানাধীন মুদি দোকানের নেটওয়ার্ক তৈরি করা।

নিউইয়র্কে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও খাদ্যনিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর একটি অংশ পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারে না। আবার কোনো কোনো এলাকায় বড় সুপারমার্কেটের অভাব থাকায় মানুষকে দূরে গিয়ে বাজার করতে হয়।

মামদানির প্রস্তাব অনুযায়ী, নগর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব স্থাপনা বা উপযুক্ত সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে মুদি দোকান পরিচালনা করতে পারে। এসব দোকানে পাইকারি মূল্যের কাছাকাছি দামে খাদ্যপণ্য বিক্রি করে বাজারে মূল্যচাপ কমানোর চেষ্টা করা হবে।

এখানে তার অর্থনৈতিক চিন্তার একটি বিশেষ দিক দেখা যায়। তিনি মনে করেন, বাজারে প্রতিযোগিতা যথেষ্ট না থাকলে কিংবা কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মূল্য নির্ধারণে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করলে রাষ্ট্র বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এর বিরুদ্ধে প্রশ্নও রয়েছে। সরকারি দোকানগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে, খাদ্যপণ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা কী হবে, বেসরকারি ব্যবসার সঙ্গে প্রতিযোগিতা কীভাবে হবে এবং ভর্তুকির ব্যয় কে বহন করবে—এসব বিষয়ে কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু সরকারি মালিকানা থাকলেই পণ্যের দাম কমবে বা পরিচালনা দক্ষ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

অতএব, এই কর্মসূচির সাফল্য নির্ভর করবে সরবরাহব্যবস্থা, পরিচালনাগত দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং প্রকৃত মূল্যসাশ্রয়ের ওপর।

ধনীদের ওপর কর: সামাজিক কর্মসূচির অর্থ কোথা থেকে আসবে?

মামদানির অর্থনৈতিক দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো উচ্চ আয়ের ব্যক্তি ও বড় করপোরেশনের ওপর কর বাড়িয়ে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির অর্থায়ন করা।

তিনি নিউইয়র্ক সিটির করপোরেট করের হার ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পাশাপাশি বছরে ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করা ব্যক্তিদের ওপর অতিরিক্ত ২ শতাংশ কর আরোপের কথা বলেছেন।

তার যুক্তি, বিশ্বের অন্যতম ধনী শহরে সম্পদ সৃষ্টির সুফল সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছানো উচিত। যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান শহরের অবকাঠামো, শ্রমবাজার, ভোক্তা ও অর্থনৈতিক পরিবেশ থেকে ব্যাপক সুবিধা পায়, তাদের কাছ থেকে অধিকতর রাজস্ব সংগ্রহ করে জনসেবায় বিনিয়োগ করা ন্যায়সংগত।

তবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এককভাবে সব করহার পরিবর্তন করতে পারেন না। বিশেষত করপোরেট ও ব্যক্তিগত আয়করের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভা ও গভর্নরের সহযোগিতা প্রয়োজন।

২০২৬ সালের মে মাসে মামদানি ১২৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের অর্থবছর ২০২৭-এর নির্বাহী বাজেট উপস্থাপন করেন। তার প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, আগের প্রশাসন থেকে পাওয়া প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতি মোকাবিলা করে সেবার বড় ধরনের কাটছাঁট বা সম্পত্তিকর বৃদ্ধি ছাড়াই বাজেট ভারসাম্যে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। পরে ৩০ জুন সিটি কাউন্সিলের সঙ্গে ১২৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বাজেট চুক্তি হয়।

এতে আবাসন, গণপরিবহন, শিক্ষা, গ্রন্থাগার, পার্ক ও সামাজিক সেবায় বিভিন্ন বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত হয়। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অর্ধেক ভাড়ায় গণপরিবহন ব্যবহারের সুযোগ সম্প্রসারণও এর অংশ।

এই বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে আনে: নির্বাচনী প্রচারণায় ঘোষিত বড় কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা যথেষ্ট নয়; রাজস্ব সংগ্রহ, অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে সমঝোতা এবং বাজেট ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা প্রয়োজন।

অভিবাসন ও নাগরিক অধিকার

নিউইয়র্কের জনসংখ্যার বড় অংশ অভিবাসী অথবা অভিবাসী পরিবারের সদস্য। মামদানি নিজেও অভিবাসী পরিবারের সন্তান। ফলে অভিবাসননীতি তার রাজনৈতিক দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি নিউইয়র্কের স্যাংচুয়ারি সিটি নীতি শক্তিশালী করার পক্ষে। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো, ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতার সীমা নির্ধারণ করা এবং অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে স্থানীয় সরকারি পরিষেবা গ্রহণে উৎসাহিত করা।

তার অবস্থান অনুযায়ী, অভিবাসীদের মধ্যে যারা বৈধ কাগজপত্রের অভাবে বসবাস করছেন, তাদেরও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।

২০২৬ সালের ২ নভেম্বর তার প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর অননুমোদিতভাবে নগরীর জমি ব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। এটি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের একটি সরাসরি যোগসূত্র।

তবে অভিবাসননীতি মূলত ফেডারেল সরকারের এখতিয়ারভুক্ত। নগর কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা সীমিত। তাই তার প্রশাসনকে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে আইনি ও প্রশাসনিক সংঘাতের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

ফিলিস্তিন, ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্য প্রশ্নে অবস্থান

মামদানির রাজনৈতিক পরিচয়ের সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো ফিলিস্তিন প্রশ্নে তার অবস্থান। কলেজজীবন থেকেই তিনি ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি ফিলিস্তিনের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইলনীতিতে পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলেছেন।

তিনি বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা আন্দোলন বা বিএসএস আন্দোলনের সমর্থক। এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চাপ তৈরি করে আন্তর্জাতিক আইন ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার বিষয়ে পরিবর্তন আনা।

মামদানির বক্তব্য অনুযায়ী, অহিংস রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের একটি পদ্ধতি হিসেবে এই আন্দোলনকে তিনি বৈধ মনে করেন। অন্যদিকে ইসরাইলপন্থি সংগঠন ও সমালোচকদের একটি অংশ বিএসএস আন্দোলনকে ইসরাইল রাষ্ট্রের বৈধতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।

নিউইয়র্কে বিশ্বের বৃহত্তম ইহুদি জনগোষ্ঠীর একটি বসবাস করে। ফলে মেয়র হিসেবে মামদানির জন্য ইসরাইল-ফিলিস্তিন প্রশ্নটি শুধু আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিষয় নয়; এটি শহরের সামাজিক সম্প্রীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলার প্রশ্নে তার অবস্থানও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়েছে। তিনি ইহুদিবিদ্বেষের বিরোধিতা করেছেন এবং ইহুদি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। তবে ইসরাইল রাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা ও ইহুদি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষকে এক করে দেখার বিরোধিতা করেন।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, ইসরাইল রাষ্ট্রের নীতি, জায়নবাদ, ইহুদি ধর্মীয় পরিচয় এবং ইহুদিবিদ্বেষ—এগুলো পরস্পর সম্পর্কিত রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হলেও এক অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে না।

মামদানির সমালোচকদের আশঙ্কা, তার কিছু বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান ইহুদি নিউইয়র্কবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করতে পারে। তার সমর্থকদের বক্তব্য, ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও ইসরাইল সরকারের সমালোচনা করার অধিকারও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার অংশ।

জুলাই ২০২৫-এ জিউইশ টেলিগ্রাফিক এজেন্সি তার ইসরাইল, ইহুদি জনগোষ্ঠী ও বিএসএস বিষয়ে বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য পর্যালোচনা করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিষয়টি বোঝার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সূত্র।

তবে মেয়র হিসেবে তার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা মনে রাখা জরুরি। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করেন না। তাঁর প্রধান দায়িত্ব শহরের প্রশাসন, নাগরিক নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং স্থানীয় সরকারি পরিষেবা নিশ্চিত করা।

জননিরাপত্তায় পুলিশনির্ভরতার বাইরে নতুন চিন্তা

মামদানির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জননিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তার বক্তব্য, নিরাপত্তা শুধু পুলিশের সংখ্যা বাড়িয়ে নিশ্চিত করা যায় না। দারিদ্র্য, বেকারত্ব, মানসিক স্বাস্থ্যসংকট, মাদকাসক্তি, গৃহহীনতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতাও নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এ কারণে তিনি ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিটি সেফটি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন। এর উদ্দেশ্য হলো, মানসিক স্বাস্থ্যসংকট বা গৃহহীনতার মতো পরিস্থিতিতে সব সময় পুলিশ পাঠানোর পরিবর্তে প্রশিক্ষিত বেসামরিক কর্মী ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা।

এই চিন্তার পেছনে জনস্বাস্থ্যভিত্তিক নিরাপত্তা ধারণা রয়েছে। অর্থাৎ অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি অপরাধের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলো মোকাবিলা করা।

তবে এর অর্থ পুলিশের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা নয়। মামদানির নির্বাচনী বক্তব্যে পুলিশকে গুরুতর অপরাধ তদন্ত ও নিয়ন্ত্রণের কাজে মনোযোগী করার কথাও রয়েছে।

এখানে তার সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থা বজায় রাখা। দ্বিতীয়ত, মানসিক স্বাস্থ্য, মাদকাসক্তি ও গৃহহীনতার মতো সমস্যায় বেসামরিক পরিষেবা কতটা কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত করা।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের ব্যবস্থাপনা প্রতিবেদনে ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের অপরাধ ২ শতাংশের বেশি কমা, হত্যাকাণ্ড প্রায় ২০ শতাংশ কমা এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ১৬ শতাংশের বেশি হ্রাস পাওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে।

তবে এই পরিসংখ্যানের সময়সীমা ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন। অর্থাৎ এর একটি বড় অংশ মামদানির দায়িত্ব গ্রহণের আগের সময়কে অন্তর্ভুক্ত করে। তাই পুরো পরিবর্তনের কৃতিত্ব তার প্রশাসনকে দেওয়া যথাযথ হবে না।

জলবায়ু, পরিবেশ ও নগরজীবনের ভবিষ্যৎ

মামদানির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ও রয়েছে। নিউইয়র্কের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে বায়ুদূষণ, তাপপ্রবাহ, বন্যা, যানজট এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা জনস্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

তিনি ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গণপরিবহন, হাঁটা ও সাইকেল ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর পক্ষে।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তার প্রশাসন ‘ভিশন জিরো রিইমাজিনড’ নামে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এতে পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা, বাস লেন সম্প্রসারণ, নিরাপদ সাইকেল নেটওয়ার্ক এবং বড় ও ভারী যানবাহনের ঝুঁকি কমানোর বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

একই সঙ্গে তাঁর প্রশাসনের পরিবেশগত উদ্যোগের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কম্পোস্টিং, বৃক্ষরোপণ ও বন্যা মোকাবিলায় অবকাঠামোগত প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ব্যবস্থাপনা প্রতিবেদন অনুযায়ী, নগরীতে বৃক্ষরোপণ ৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫ হাজারে পৌঁছায়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রাস্তার গর্ত মেরামতের ক্ষেত্রেও উন্নতির তথ্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো প্রশাসনিক কার্যক্রমের পরিমাপযোগ্য সূচক, যদিও এগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য আরও সময় প্রয়োজন।

প্রতিশ্রুতি থেকে প্রশাসনিক বাস্তবতা

মামদানির রাজনৈতিক জীবন বিশ্লেষণে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরের কর্মকাণ্ড বিবেচনা করা জরুরি।

২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রথম দিনেই ভাড়াটিয়াদের অধিকার রক্ষায় মেয়রের দপ্তর পুনরুজ্জীবিত করেন। আবাসনসংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং বাড়িওয়ালাদের দায়িত্ব ও ভাড়াটিয়াদের অধিকার বাস্তবায়নে নজর দেওয়ার কথা বলেন।

মে মাসে তার প্রশাসন ১২৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের নির্বাহী বাজেট উপস্থাপন করে। জুনে সিটি কাউন্সিলের সঙ্গে ১২৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বাজেট চুক্তি হয়।

সেপ্টেম্বরের ব্যবস্থাপনা প্রতিবেদনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশিত হয়। নগরীতে সাশ্রয়ী আবাসন সম্পন্ন হওয়ার সংখ্যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়ে ২৬ হাজার ৯৭১টিতে পৌঁছেছে। খাদ্য বিতরণ ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের বেশি হয়েছে। সরকারি আবাসনে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায় প্রাথমিক চিকিৎসকের পরবর্তী অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার অপেক্ষার সময়ও কমেছে।

তবে এগুলো মেয়র প্রশাসনের প্রকাশিত ব্যবস্থাপনা প্রতিবেদন থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান। এগুলোর সবটুকু নতুন মেয়রের ব্যক্তিগত উদ্যোগের ফল নয়। বরং প্রশাসনের সামগ্রিক কার্যক্রমের একটি মূল্যায়ন হিসেবে দেখা উচিত।

অন্যদিকে ২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর তার প্রশাসন খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত ব্যক্তিদের স্থানীয় বাজার ও কৃষিপণ্যের দোকান থেকে তাজা ফলমূল ও সবজি কেনার জন্য অতিরিক্ত ৪০ শতাংশ সহায়তার ঘোষণা দেয়। এ উদ্যোগ তার খাদ্যনিরাপত্তা ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সমালোচনা ও সীমাবদ্ধতা: আদর্শের সঙ্গে বাস্তবতার সংঘাত

মামদানির রাজনৈতিক দর্শনের সমালোচনার প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো অর্থায়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা, বাজারের ওপর রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা।

প্রথমত, তার সামাজিক কর্মসূচির ব্যয় অনেক বেশি। বিনামূল্যে বাস, সর্বজনীন শিশু পরিচর্যা, সাশ্রয়ী আবাসন এবং নগরীর নিজস্ব মুদি দোকানের জন্য বিপুল অর্থ প্রয়োজন। শুধু ধনীদের ওপর কর বাড়িয়ে সব কর্মসূচির অর্থায়ন সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র অঙ্গরাজ্য সরকারের সহযোগিতা ছাড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে পারেন না। করনীতি, গণপরিবহন, আবাসন আইন ও শিক্ষা খাতে তার প্রশাসনের ক্ষমতার সীমা রয়েছে।

তৃতীয়ত, ভাড়া নিয়ন্ত্রণের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ভাড়াটিয়ারা স্বস্তি পেলেও দীর্ঘমেয়াদে বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন বিনিয়োগ ও আবাসন সরবরাহে কী প্রভাব পড়বে, তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

চতুর্থত, সরকারি মুদি দোকানের ধারণা বাস্তবায়নে দক্ষ ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। সরকারি প্রতিষ্ঠান অনেক সময় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যয় এবং অদক্ষতার শিকার হতে পারে। ফলে এই কর্মসূচির সাফল্য শুধু নীতিগত উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করবে না।

পঞ্চমত, জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে সামাজিক প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি ও পুলিশি ব্যবস্থার মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

এ ছাড়া তার রাজনৈতিক পরিচয় ও ফিলিস্তিন বিষয়ে অবস্থান নিউইয়র্কের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিতর্ক তৈরি করেছে। একজন মেয়রের জন্য মতাদর্শিক অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি শহরের সব ধর্মীয়, জাতিগত ও রাজনৈতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৬ সালের মার্চে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে তার প্রশাসনের ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় ব্যয় কমানো এবং কিছু নির্বাচনী কর্মসূচির বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়ার বিষয় উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে বাজেট চুক্তি ও নতুন রাজস্ব ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রশাসন ঘাটতি মোকাবিলার চেষ্টা করে। এই ঘটনাটি দেখায়, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বাস্তবতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

মামদানির রাজনীতি কি বিশ্বজুড়ে নতুন প্রজন্মের জন্য উদাহরণ?

মামদানির উত্থানকে শুধু নিউইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতির ঘটনা হিসেবে দেখলে এর বৃহত্তর তাৎপর্য বোঝা যাবে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণ রাজনীতিকেরা এখন জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈষম্যকে রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সামাজিক গণতন্ত্র, গ্রিন পলিটিকস এবং গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের ধারায় এসব বিষয় দীর্ঘদিন আলোচিত। যুক্তরাষ্ট্রে বার্নি স্যান্ডার্সের রাজনৈতিক আন্দোলন, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজের উত্থান এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সক্রিয়তার মধ্যেও এ ধরনের রাজনীতির বিস্তার দেখা যায়।

মামদানির বিশেষত্ব হলো, তিনি এসব বৃহত্তর ধারণাকে একটি মহানগরের দৈনন্দিন সংকটের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তার রাজনীতিতে বাড়িভাড়া একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন, বাসের ভাড়া একটি সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন, শিশু পরিচর্যা একটি অর্থনৈতিক অধিকার এবং খাদ্যনিরাপত্তা একটি সরকারি দায়িত্ব।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্যও তার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু নীতিগত প্রশ্ন সামনে আসে। নগরীতে আবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, গণপরিবহনে জনবান্ধব ব্যবস্থা, কর্মজীবী পরিবারের শিশু পরিচর্যা, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা এবং খাদ্যনিরাপত্তাকে সমন্বিত নগরনীতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

তবে নিউইয়র্কের অর্থনৈতিক সামর্থ্য, করব্যবস্থা, স্থানীয় সরকার কাঠামো এবং বাংলাদেশের বাস্তবতা এক নয়। তাই তার কর্মসূচি হুবহু অনুসরণ করার পরিবর্তে নীতিগুলোর কার্যকারিতা, অর্থায়ন ও স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিচার করা প্রয়োজন।

পরিচয়ের চেয়ে বড় হয়ে উঠছে জীবনযাত্রার রাজনীতি

জোহরান মামদানির রাজনৈতিক উত্থান সমকালীন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে কয়েকটি পরিবর্তনশীল প্রবণতার প্রতিফলন। অভিবাসী পরিবারের সন্তান, মুসলিম, দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী—এই পরিচয়গুলোর সমন্বয়ে তিনি নিউইয়র্কের রাজনৈতিক নেতৃত্বে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।

তবে তার নির্বাচনী সাফল্যের প্রধান ব্যাখ্যা শুধু পরিচয়ের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। আবাসন, গণপরিবহন, শিশু পরিচর্যা, খাদ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়কে সামনে রেখে তিনি একটি সুস্পষ্ট অর্থনৈতিক কর্মসূচি উপস্থাপন করেছেন। সেই কর্মসূচি নগরীর বহু মানুষের বাস্তব উদ্বেগের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করেছে।

তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল কথা হলো, একটি শহরের উন্নয়ন শুধু তার সম্পদের পরিমাণ, আকাশচুম্বী ভবন, বড় ব্যবসা কিংবা বিনিয়োগের পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা যায় না। শহরের একজন সাধারণ মানুষ সেখানে কতটা নিরাপদে থাকতে পারেন, সন্তানকে বড় করতে পারেন, কাজের সুযোগ পান এবং আয় দিয়ে সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারেন—সেটিও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।

তবে তার সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা নির্বাচনী প্রচারণা নয়, প্রশাসন পরিচালনা। সামাজিক কল্যাণের প্রতিশ্রুতি, বাজেটের শৃঙ্খলা, ব্যবসায়িক পরিবেশ, জননিরাপত্তা এবং বহুত্ববাদী সমাজের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই তার রাজনৈতিক দর্শনের বাস্তব মূল্যায়ন সম্ভব হবে।

মামদানির মেয়রত্ব তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষাগার। তিনি কি প্রমাণ করতে পারবেন যে বড় একটি পুঁজিবাদী মহানগরেও জনকল্যাণ, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার এবং কার্যকর প্রশাসনকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তরই আগামী দিনে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নির্ধারণ করবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন