আশারা চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের সভায় বক্তারা

ভিক্ষা নয়, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের আহ্বান

ভিক্ষা নয়, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের আহ্বান

ভিক্ষাবৃত্তি নিরসনে প্রকৃত অসহায় মানুষকে চিহ্নিত করে পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট আলেম, সাংবাদিক, লেখক ও সমাজকর্মীরা। তারা বলেছেন, ভিক্ষা দিয়ে নয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলার মাধ্যমেই ভিক্ষাবৃত্তির স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আশারা চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ভিক্ষুকমুক্ত বাংলাদেশ গঠন : সংকট ও সমাধান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, ভিক্ষা করা মানুষের সবাই প্রকৃত অসহায় নন। তাদের একটি অংশ সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম হয়েও ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তাই ভিক্ষাবৃত্তি নিরসনে প্রথমে জরিপ ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত অভাবী ও অসহায় মানুষকে চিহ্নিত করতে হবে।

তারা বলেন, প্রকৃত অসহায়দের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য পুঁজি এবং অন্যান্য সহযোগিতা দিতে হবে। যারা কাজ করতে সক্ষম, তাঁদের ভিক্ষার পরিবর্তে কাজের সুযোগ করে দিতে হবে। আর যারা সত্যিই কর্মক্ষম নন বা অসহায়, তাদের দায়িত্ব নিতে হবে সমাজ ও রাষ্ট্রকে।

বক্তারা আরও বলেন, ভিক্ষাবৃত্তি নিরসনে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ জন্য সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, চ্যারিটি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন, পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের ধারাবাহিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এ সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

সভায় ‘ভিক্ষা নয়, পুনর্বাসন’—এই ধারণাকে সামনে রেখে ভিক্ষাবৃত্তি নিরসনে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে ভিক্ষাবৃত্তিমুক্ত করা সম্ভব।

আশারা চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, অসহায় মানুষের হাতে ভিক্ষার পাত্র তুলে দেওয়া নয়, বরং তাদের জন্য সম্মানজনক জীবনের সুযোগ সৃষ্টি করাই সংগঠনটির মূল লক্ষ্য। কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন মাসিক মদিনার সম্পাদক মুফতি কাজী ইবরাহীম, আহমদ বদরুদ্দীন খান, সাংবাদিক ও লেখক আমীরুল মোমেনীন মানিক, আলোর ছটা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুফতি মাসুম আহমাদ, তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাওলানা গাজী ইয়াকুব, আল হিদায়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুফতি মুহাম্মদ আলী, রাহমানী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুস্তাফিজ রাহমানী, লেখক মাওলানা জহির ইবনে মুসলিম, মাওলানা আহসানুল্লাহ কাসেমী, প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক মনযূরুল হক, মাওলানা শহীদুল ইসলাম, ছাকিবুল ইসলাম কাসেমী ও মুফতি আবদুর রহমান কাসেমীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

মহব্বত হোসাইন ও মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমীর সঞ্চালনায় এবং সাইমুম সাদীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, ভিক্ষাবৃত্তির পেছনে থাকা দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও সামাজিক অসহায়ত্বের কারণগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি কর্মক্ষম মানুষকে কাজের সুযোগ এবং প্রকৃত অসহায়দের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা গেলে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও ভিক্ষামুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...