তরুণ প্রজন্ম ‘জেনারেশন জেড’কে অলস এবং ‘লিবারেল’ বা উদারপন্থি চিন্তাধারায় আচ্ছন্ন বলে মন্তব্য করেছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। ফক্স নিউজের উপস্থাপক জেসি ওয়াটার্সের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান তরুণদের একটি অংশ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ করছে এবং তাদের কিউবা বা ইরানে পাঠানো হলে তারা দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে চাইবে।
সাক্ষাৎকারে লেভিট দাবি করেন, জেনারেশন জেডের একটি অংশ ‘লিবারেল চিন্তাধারায় প্রভাবিত’ এবং তাদের কাজের মানসিকতায় ঘাটতির পেছনে লিবারেল শিক্ষক ও অধ্যাপকদের ভূমিকা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই প্রজন্ম সহজে সবকিছু পাওয়ার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে, যা তাদের দায়িত্ববোধ ও কর্মনিষ্ঠার ওপর প্রভাব ফেলেছে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গঠনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশটি মেধা, কঠোর পরিশ্রম এবং ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আছে; যাকে তিনি ‘আমেরিকান ড্রিম’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এটি রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
আলোচনায় জেসি ওয়াটার্স তরুণদের অর্থনৈতিক চাপ ও ব্যয়বহুল জীবনযাত্রার বিষয়ে প্রশ্ন করলে লেভিট বলেন, এসব অভিযোগ তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করছে এবং তাদের আচরণে তা প্রতিফলিত হচ্ছে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, কিছু অভিভাবক তাদের সন্তানদের হোম-স্কুলিং বা ধর্মীয় স্কুলে পাঠাচ্ছেন, যাতে তারা তার ভাষায় ‘লিবারেল বা কমিউনিস্ট ভাবধারার’ প্রভাব থেকে দূরে থাকে।
কথোপকথনের একপর্যায়ে ওয়াটার্স রসিকতা করে অবাধ্য তরুণদের সেনাবাহিনীতে পাঠানোর প্রসঙ্গ তুললে লেভিট বলেন, তাদের কিউবা বা ইরানে পাঠানো হলে তারা দ্রুতই বাস্তবতা উপলব্ধি করবে এবং দেশে ফিরতে চাইবে।
এই মন্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই বলেন, লেভিট তরুণদের বাস্তব অর্থনৈতিক চাপ যেমন—উচ্চ আবাসন ব্যয়, স্টুডেন্ট লোন এবং সীমিত চাকরির সুযোগ উপেক্ষা করেছেন।
সমালোচকদের মতে, এসব কাঠামোগত সমস্যার কারণে অনেক তরুণ এখনো পরিবারে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে লেভিটের মন্তব্যকে অনেকে বাস্তবতাবিচ্ছিন্ন ও অতিরঞ্জিত বলে অভিহিত করেছেন।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


