তনু হত্যা মামলা: দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস

তনু হত্যা মামলা: দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস

বহুল আলোচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অভিযুক্ত পলাতক সাবেক দুই সেনাসদস্যকে ধরতে রেড নোটিস জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ‘ইন্টারপোল’।

বিজ্ঞাপন

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার তাদের বিরুদ্ধে পৃথক এই রেড নোটিসগুলো জারি করা হয়।

রেড নোটিসপ্রাপ্ত দুই অভিযুক্ত হলেন—সাবেক সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান ও সাবেক সৈনিক মো. শাহীন আলম।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, পলাতক দুই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা, তাদের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করা এবং গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্দেশ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি, ঢাকা) ইন্টারপোলের মাধ্যমে এই উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে মঙ্গলবার ইন্টারপোল দুজনের বিরুদ্ধে এই পৃথক রেড নোটিস জারি করে।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম সংক্ষেপে উত্তর দিয়ে বলেন, পজিটিভ।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমকে এই মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দুজনেই সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি; তবে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

ইন্টারপোলের এই নোটিসের ফলে ১৯৫টি সদস্য দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সরাসরি সহায়তা প্রদান করতে পারবে। যেকোনো দেশে তাদের সন্ধান পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে, গত ৮ জুন তনু হত্যা মামলায় এই দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত। একই সঙ্গে তাদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম আদালতে আবেদনের সময় উল্লেখ করেছিলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ওই দুজনের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার জোরালো সন্দেহ রয়েছে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা অপরিহার্য।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন