চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুম শুরুর আগেই উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ড্রয়ে লিগ পর্বে ৩৬ দলের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হয়েছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে লিগ পর্বের ম্যাচ। শুরুতেই ইউরোপের বেশ কয়েকটি বড় দলের মুখোমুখি লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।
লিগ পর্বে যে ম্যাচগুলো নিয়ে এখন থেকেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো।
রিয়াল মাদ্রিদ–ইন্টার মিলান
চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল রিয়াল মাদ্রিদ নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে লিগ পর্বের অভিযান শুরু করবে। ১৬তম ইউরোপীয় শিরোপার লক্ষ্যে থাকা রিয়ালের সামনে থাকবে ইতালির বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ইন্টারের বড় ভরসা আর্জেন্টাইন তারকা ও অধিনায়ক লাউতারো মার্তিনেজ।
দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর। সেবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে রিয়াল ২-০ গোলে জয় পেয়েছিল। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত মুখোমুখি লড়াইয়ে রিয়ালের জয় ৭টি, ইন্টারের ৫টি এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে জয় পেয়েছিল ইন্টার। ১৯৬৪ সালের ফাইনালে রিয়ালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতেছিল ইতালির ক্লাবটি।
আর্সেনাল–রিয়াল মাদ্রিদ
এমিরেটস স্টেডিয়ামে রিয়াল মাদ্রিদের আতিথ্য নেবে ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল। গত মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালে এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। দুই লেগেই জয় পেয়েছিল আর্সেনাল; ইংল্যান্ডে ৩-০ এবং স্পেনে ২-১ গোলে।
এর আগে ২০০৫-০৬ মৌসুমের শেষ ষোলোর লড়াইটিও জিতেছিল আর্সেনাল। ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের বিপক্ষে এখনো অপরাজিত উত্তর লন্ডনের দলটি।
পিএসজি–বার্সেলোনা
গতবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজির সামনে এবার বার্সেলোনা। তৃতীয় ইউরোপীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে থাকা প্যারিসের দলটি গত মৌসুমের লিগ পর্বে বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল।
তবে দুই দলের লড়াইয়ের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় ২০১৬-১৭ মৌসুমের শেষ ষোলো। প্রথম লেগে পিএসজি ৪-০ গোলে জিতলেও দ্বিতীয় লেগে ক্যাম্প ন্যুতে লিওনেল মেসিদের বার্সেলোনা অবিশ্বাস্যভাবে ৬-১ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে।
ম্যানচেস্টার সিটি–পিএসজি
শিরোপা ধরে রাখার পথে পিএসজির আরেক কঠিন পরীক্ষা ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে। দুই দলের হেড-টু-হেড লড়াইয়ে সিটি এগিয়ে; জয় ৪টি, হার ২টি এবং ড্র ১টি। নকআউট পর্বে আগের দুই সাক্ষাতেও জয় পেয়েছিল ইংলিশ ক্লাবটি।
তবে সর্বশেষ দেখায় জয় ছিল পিএসজির। ২০২৪-২৫ মৌসুমের লিগ পর্বে ফরাসি ক্লাবটি ৪-২ গোলে সিটিকে হারিয়েছিল।
অ্যাস্টন ভিলা–পিএসজি
লিগ পর্বের চতুর্থ রাউন্ডে অ্যাস্টন ভিলার মাঠ ভিলা পার্কে মুখোমুখি হবে পিএসজি। দুই দল এর আগে ২০২৪-২৫ মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল। সেবার লুইস এনরিকের দল পরের রাউন্ডে জায়গা করে নেয়।
এবার ঘরের মাঠে সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবে ভিলা। তবে তাদের খেলতে হবে দিবু মার্তিনেজকে ছাড়া। দলের হয়ে আলেক্সান্দার গারনাচো ও এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া প্রতিশোধের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চাইবেন।
ম্যানচেস্টার সিটি–বার্সেলোনা
লিগ পর্বের প্রথম দিকের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে যাচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি ও বার্সেলোনার লড়াই। সর্বশেষ ২০১৬ সালের গ্রুপ পর্বে সিটি ৩-১ গোলে জয় পেয়েছিল। কিন্তু দুই দলের সামগ্রিক মুখোমুখি রেকর্ডে স্পষ্ট আধিপত্য বার্সেলোনার; ৫ জয়, ১ হার।
ইন্টার মিলান–লিভারপুল
সান সিরোতে মুখোমুখি হবে ইন্টার মিলান ও লিভারপুল। ম্যাচটি বাড়তি আকর্ষণ পাচ্ছে দুই আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী তারকা লাউতারো মার্তিনেজ ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মুখোমুখি লড়াইয়ের কারণে।
গত মৌসুমে মিলানে লিভারপুল ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল। এবার নিজেদের মাঠে সেই হারের প্রতিশোধ নিতে চাইবে ইন্টার।
লিভারপুল–অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ
বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ খেলার পর অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের মুখোমুখি হবে দিয়েগো সিমিওনের অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।
ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় এটি দুই দলের অষ্টম সাক্ষাৎ। আগের সাত ম্যাচে লিভারপুলের জয় ৩টি, অ্যাতলেটিকোর ২টি এবং ড্র হয়েছে ২টি। গত মৌসুমের লিগ পর্বে লিভারপুলের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল মাদ্রিদের ক্লাবটি। এবার সেই হারের জবাব দেওয়ার লক্ষ্য থাকবে তাদের।
আর্সেনাল–বায়ার্ন মিউনিখ
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালের সামনে এবার বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ। গত মৌসুমের লিগ পর্বে বায়ার্নকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল আর্সেনাল।
তবে দুই দলের ইউরোপীয় ইতিহাসে এগিয়ে বায়ার্ন। এখন পর্যন্ত জার্মান ক্লাবটির জয় ৮টি, আর্সেনালের ৪টি এবং ড্র ৩টি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, দুই দলের পাঁচটি নকআউট লড়াইয়ের প্রতিটিতেই জয় পেয়েছে বায়ার্ন।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড–বায়ার্ন মিউনিখ
দুই মৌসুম পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সামনে বায়ার্ন মিউনিখ। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইউরোপের দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের লড়াইটি তাই আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
সামগ্রিক মুখোমুখি পরিসংখ্যানে বায়ার্ন এগিয়ে; ৬ জয়, ৫ ড্র ও ২ হার। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটির স্মৃতি এখনো ইউনাইটেড সমর্থকদের কাছে উজ্জ্বল। ১৯৯৮-৯৯ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় জয়ে বায়ার্নকে হারিয়ে দ্বিতীয় ইউরোপীয় শিরোপা জিতেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

