‘মরুভূমি’ শব্দটি শুনলেই সাধারণত চোখের সামনে ভেসে ওঠে সাহারা, ডেথ ভ্যালি কিংবা বিস্তীর্ণ বালুকাময় প্রান্তরের ছবি। তবে বাস্তবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি বালুময় নয়; বরং এটি হাজার হাজার কিলোমিটারজুড়ে বরফে আচ্ছাদিত এক মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা।
ভূতাত্ত্বিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, মরুভূমি নির্ধারিত হয় তাপমাত্রা দিয়ে নয়, বরং বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দিয়ে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা) জানায়, যে অঞ্চলে বছরে প্রায় ১০ ইঞ্চি বা তার কম বৃষ্টিপাত হয়, সেটিকে মরুভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সেই সংজ্ঞা অনুযায়ী অ্যান্টার্কটিকা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টার্কটিক প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, মহাদেশটিতে বছরে গড়ে মাত্র ২ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত বা তুষারপাত হয়। ফলে এটি বিশ্বের সবচেয়ে শীতল, সবচেয়ে বাতাসপ্রবণ এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে শুষ্ক অঞ্চলগুলোর একটি।
আয়তনের দিক থেকেও অ্যান্টার্কটিকা বিশাল। প্রায় ৫৪ লাখ বর্গমাইল বিস্তৃত এই মহাদেশ সাহারা মরুভূমির চেয়েও প্রায় দেড় গুণ বড়।

অ্যান্টার্কটিকায় বাতাসে উড়তে থাকা তুষার দেখে নতুন তুষারপাত মনে হলেও বাস্তবে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুরোনো বরফের কণাকে প্রবল বাতাস বারবার উড়িয়ে নিয়ে যায়। নতুন তুষারপাত সেখানে খুবই সীমিত।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, এত কম বৃষ্টিপাতের পরও অ্যান্টার্কটিকা কয়েক কিলোমিটার পুরু বরফের স্তরে ঢাকা। এখানেই সংরক্ষিত রয়েছে পৃথিবীর মোট বরফের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ মিঠাপানি।
চরম শুষ্কতা ও হিমাঙ্কের অনেক নিচের তাপমাত্রার কারণে নাসা প্রায়ই অ্যান্টার্কটিকার পরিবেশের সঙ্গে মঙ্গল গ্রহের তুলনা করে। সংস্থাটি জানায়, মঙ্গলে পাঠানো কিছু রোবটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও অ্যান্টার্কটিকায় পরিচালিত হয়েছিল, কারণ দুই স্থানের পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টার্কটিকা প্রমাণ করে যে মরুভূমি মানেই বালু আর প্রচণ্ড গরম নয়। বরং যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত কম বৃষ্টিপাত হয়, সেই অঞ্চল তা বরফে ঢাকা হোক বা বালুময় মরুভূমির সংজ্ঞার মধ্যেই পড়ে।
সূত্র: ফক্স ওয়েদার
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


