‘রাশিয়াকে সাহায্য করতে নয়, নিজেদের স্বার্থেই তেল কেনে ভারত’

‘রাশিয়াকে সাহায্য করতে নয়, নিজেদের স্বার্থেই তেল কেনে ভারত’
ছবি: সংগৃহীত।

নয়াদিল্লি তার নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যই রাশিয়ার তেল কেনে, ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে অর্থায়নে সাহায্য করার জন্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত দেনিস আলিপভ।

বিজ্ঞাপন

ডিডি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলিপভ বলেন, ‘ভারত রাশিয়াকে সহায়তা করার জন্য তেল কিনছে না। তারা নিজেদের জন্য এবং নিজেদের জাতীয় উন্নয়নের জন্য তেল কিনছে। এ ক্ষেত্রে দেশটির জনগণের কল্যাণ ও স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

রুশ তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং সম্ভাব্য ‘সেকেন্ডারি ট্যারিফ’ আরোপের আলোচনা জোরালো হওয়ার মধ্যেই আলিপভ এ মন্তব্য করলেন।

পশ্চিমা চাপের সমালোচনা

যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ চলছে, যার আওতায় রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাসের সবচেয়ে বড় পাঁচ ক্রেতার ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হতে পারে। প্রস্তাবিত ‘স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট’-এ বলা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে এ ধরনের বাণিজ্য দেশটির অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে এবং এর মাধ্যমে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর অর্থ জোগানো সহজ হচ্ছে।

প্রস্তাবিত আইনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পাশাপাশি শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক এবং জ্বালানি প্রকল্পের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথা রয়েছে।

এ ধরনের পদক্ষেপের সমালোচনা করে আলিপভ বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সৎ সহযোগিতার পরিবর্তে ‘চাপ প্রয়োগের কৌশল’ বেছে নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যারা নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ করছে, তারা দুর্ভাগ্যজনকভাবে সৎ সহযোগিতার পরিবর্তে চাপ প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে। ভারতকে আমাদের চেয়ে ভালো দামে তেল দেওয়ার ক্ষেত্রে ওই দেশগুলোকে কে বাধা দিচ্ছে? কিন্তু কেউ তা করতে পারছে না। তাই চাপ ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

ভারত নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় কতটা দৃঢ়—সেটিই মূল বিষয় বলেও মন্তব্য করেন আলিপভ। তার ভাষায়, ‘ভারত দেখিয়েছে যে তারা নিজেদের অবস্থানে অটল থাকতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে সক্ষম।’

ভারতের প্রয়োজন অনুযায়ী যতটা তেল দরকার, রাশিয়া তা সরবরাহ করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের পক্ষে ভারতের অবস্থান

এদিকে রাশিয়ার তেল কেনা কমালেই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শুক্রবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সরকারি সফরে গিয়ে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন।

জয়শঙ্কর বলেন, পাঁচ বছরে পা দেওয়া এই সংঘাতের সমাধান তেল, অ্যালুমিনা, খনিজ, ধাতু বা সার কেনা-বেচা বন্ধের মাধ্যমে হবে না; এর সমাধান করতে হবে সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে।

তিনি বলেন, ‘এই সংঘাত এখন পঞ্চম বছরে। কেউ তেল, অ্যালুমিনা, খনিজ, ধাতু বা সার কিনছে কি না—তার ওপর ভিত্তি করে এই সংঘাতের সমাধান হবে না। সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমেই এর সমাধান হবে।’

১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভারতের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন জয়শঙ্কর। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ইউক্রেন ও ভারতের নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান জানানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো অবশ্য মনে করে, রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যে আঘাত হানতে পারলে মস্কোর অর্থপ্রবাহ কমে যাবে এবং এতে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।

তবে কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যেও ভারতীয় অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী হিসেবে রাশিয়া তার অবস্থান ধরে রেখেছে। যদিও জুন ও জুলাইয়ে রুশ তেল আমদানি রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর পর আগস্টে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন