এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বাড়াতে নতুন পাইপলাইন নির্মাণের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে কানাডা। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং তেলসমৃদ্ধ আলবার্টা প্রদেশের প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ শিল্প কার্বন মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত একটি চুক্তিতে সই করেন, যা প্রকল্পটির বড় বাধা দূর করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য বাড়ানোকে কার্নির অর্থনৈতিক কৌশলের অন্যতম অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে নতুন পাইপলাইন পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র বিতর্কও রয়েছে।
এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর জলবায়ুকেন্দ্রিক নীতির কঠোর সমালোচক ছিলেন স্মিথ। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ট্রুডোর নীতির কারণে আলবার্টার তেলশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কার্নির সঙ্গে সমন্বয়ের পথে হাঁটছেন।
শুক্রবারের চুক্তি অনুযায়ী, বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্বন নিঃসারণের ওপর ধাপে ধাপে কর আরোপ করা হবে। ২০৪০ সালের মধ্যে প্রতি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসারণে ১৩০ কানাডিয়ান ডলার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রুডো সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ১৭০ ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছিল।
ক্যালগারিতে ঘোষণার সময় কার্নি বলেন, এশিয়ার বাজারে তেল সরবরাহের জন্য প্রস্তাবিত পাইপলাইনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে সরকারের মেজর প্রজেক্টস অফিসে জমা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘এশিয়ার দেশগুলো কানাডার জ্বালানির ওপর আস্থা রাখছে, কারণ তারা জানে আমরা একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার।’
কার্নি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি দীর্ঘমেয়াদে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্ক বদলে দিতে পারে। তাই এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা জরুরি।
তবে পাইপলাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বৃহৎ কার্বন ক্যাপচার ও সংরক্ষণ উদ্যোগও গড়ে তুলতে হবে বলে জানান কার্নি।
এদিকে কয়েকটি আদিবাসী গোষ্ঠী ও ফার্স্ট নেশনস সম্প্রদায় ইতোমধ্যে জানিয়েছে, আলবার্টা থেকে কানাডার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত কোনো পাইপলাইন নির্মাণ হলে তারা এর বিরোধিতা করবে।
বামপন্থী নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা আভি লুইস অভিযোগ করেছেন, এই ঘোষণা ‘তেল ও গ্যাস লবির কাছে কার্নি সরকারের আত্মসমর্পণের’ শামিল।
রাজনৈতিকভাবেও বিষয়টি স্পর্শকাতর সময়ে এসেছে। আলবার্টায় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। তারা প্রাদেশিক তেলশিল্পে অটোয়ার নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করছে।
আলবার্টায় বেড়ে ওঠা কার্নি অবশ্য জোর দিয়ে বলেছেন, ‘একতাবদ্ধ কানাডার মধ্যেই আলবার্টা সমৃদ্ধ হতে পারে।’
তথ্যসূত্র: এএফপি
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


