ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই বাড়তি উন্মাদনা। নারী ক্রিকেটেও দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু এবারের এশিয়া কাপের সেই মহারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারল না পাকিস্তান। ভারতীয় বোলারদের সামনে মাত্র ৫৫ রানেই গুটিয়ে গিয়ে ৭ উইকেটে হেরেছে। একই সঙ্গে নিজেদের নারী টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের লজ্জার রেকর্ড গড়েছে ফাতিমা সানার দল।
১৮.১ ওভার ব্যাট করে পাকিস্তানের ইনিংস থামে ৫৫ রানে। এর আগে নারী টি-টোয়েন্টিতে তাদের সর্বনিম্ন সংগ্রহ ছিল ৫৬ রান। ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই সংগ্রহে অলআউট হয়েছিল পাকিস্তান। দুই বছর পর এবার নিজেদের সেই রেকর্ডও ভেঙে ফেলল তারা।
পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসের চিত্রটা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে স্কোরকার্ডে চোখ রাখলে। দুই ওপেনার ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। শাওয়াল জুলফিকার সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন। মুনিবা আলির ব্যাট থেকে আসে ১৩ রান। অর্থাৎ, দলের দুই ওপেনারই করেন মোট ২৭ রান। বাকি নয় ব্যাটারের অবদান ছিল মাত্র ২৮ রান।
পাকিস্তানের নারী টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এটি শুধু সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহই নয়, অলআউট হওয়া ম্যাচে ব্যাটারদের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের তালিকাতেও অন্যতম নিচের দিকের ঘটনা। ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬০ রানে অলআউট হওয়ার ম্যাচে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল বিসমাহ মারুফের ১৩ রান। এবার ৫৫ রানের ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেছেন শাওয়াল।
ভারতীয় বোলারদের মধ্যে শ্রী চরনি ও প্রেমা রাওয়াত ছিলেন সবচেয়ে সফল। দুজনই নেন তিনটি করে উইকেট। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারও ব্যাট করতে পারেনি দলটি।
৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অবশ্য শুরুতে কিছুটা ধাক্কা খায় ভারত। দলীয় ১৩ রানে শেফালি ভার্মা এবং ১৮ রানে প্রতিকা রাওয়াল আউট হন। পরে স্মৃতি মান্ধানাও ফিরে গেলে খানিকটা সুযোগ তৈরি হয়েছিল পাকিস্তানের সামনে। তবে এত কম পুঁজি নিয়ে ম্যাচে ফেরা সম্ভব হয়নি। মাত্র ৮.৪ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত। ৬৮ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে তারা।
বলের হিসাবে এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের অন্যতম বড় জয়। আর ৫৫ রানে অলআউট হওয়ার মাধ্যমে নারী টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহগুলোর তালিকায়ও ওপরের দিকে উঠে এসেছে পাকিস্তান।
ভারতের বিপক্ষে এর আগে আরও কয়েকটি দলের ব্যাটিং ধস দেখা গেছে। ২০১৮ সালে মালয়েশিয়া মাত্র ২৭ রানে অলআউট হয়েছিল। থাইল্যান্ড গুটিয়েছিল ৩৭ রানে। বাংলাদেশও ভারতের বিপক্ষে পৃথক দুটি ম্যাচে ৫১ ও ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল। সেই তালিকায় এবার যোগ হলো পাকিস্তানের নাম।
অবশ্য মেয়েদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার বিশ্বরেকর্ড আরও অবিশ্বাস্য। বাংলাদেশের বিপক্ষে মালদ্বীপের মেয়েরা একবার মাত্র ৬ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল। একই সংগ্রহে অলআউট হওয়ার ঘটনা আছে মালিরও।
তবে পাকিস্তানের জন্য ভারতের বিপক্ষে এবারের ঘটনাটি আলাদা বিব্রতকর। কারণ শুধু হারের ব্যবধান নয়, নিজেদের দীর্ঘ টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ডও যে এই ম্যাচেই লিখেছে তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

