বাহাদুরাবাদ-বালাসী রুটে সেতু করেই ছাড়ব: বিমানমন্ত্রী

বাহাদুরাবাদ-বালাসী রুটে সেতু করেই ছাড়ব: বিমানমন্ত্রী

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ও গাইবান্ধার বালাসী ঘাটের মধ্যবর্তী যমুনা নদীতে সেতু নির্মাণের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, ‘বাহাদুরাবাদ-বালাসী রুটে সেতু করেই ছাড়ব।’ সেতু নির্মাণের আগ পর্যন্ত এ নৌরুটে অন্তত দুটি ফেরি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার দুপুরে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী বলেন, সেতু নির্মাণে সময় লাগবে। তবে এর আগেই অন্তত দুটি ফেরি চালু করা গেলে যমুনার দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। একই সঙ্গে গাইবান্ধাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান, ভুট্টা, আলু ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজে দেওয়ানগঞ্জ ও জামালপুরের বাজারে আনা-নেওয়া করা সম্ভব হবে।

দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ও গাইবান্ধার বালাসী ঘাটের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নাব্য সংকট ও ফেরি চলাচলে অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই প্রান্তে ফেরিঘাট টার্মিনালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও নিয়মিত ফেরি সার্ভিস চালু করা সম্ভব হয়নি। নাব্য সংকটের কারণে নির্মিত টার্মিনাল দুটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচল পড়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বাহাদুরাবাদ-বালাসী নৌপথের দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। নৌপথটি নিয়মিত সচল হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জামালপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ঘুরপথ এড়িয়ে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনেও সময় ও খরচ কমবে।

আর এ রুটে সেতু নির্মাণ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সেতুর মাধ্যমে যাত্রী চলাচলের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য দ্রুত জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিও গতি পাবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

এর আগে গত মে মাসেও মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বাহাদুরাবাদ-বালাসী রুটে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। সে সময় তিনি এ সেতুকে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন হিসেবে উল্লেখ করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমানে ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যমুনা পার হতে গিয়ে যাত্রীদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বর্ষা ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় ঝুঁকিও বেড়ে যায়। ফলে স্থায়ী সমাধান হিসেবে সেতু নির্মাণের পাশাপাশি সেতু না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ফেরি সার্ভিস চালু করা জরুরি।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রীর সেতু নির্মাণের নতুন প্রত্যয় এবং অন্তর্বর্তী সময়ে দুটি ফেরি চালুর উদ্যোগের ঘোষণায় দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে আশার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুটি ফেরি চালু করা সম্ভব হলে দ্রুতই যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনে স্বস্তি ফিরবে। আর দীর্ঘমেয়াদে সেতু নির্মাণ হলে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন