২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন পুনরায় হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের অনেকের ধারণা ছিল বেইজিংয়ের প্রতি তিনি অত্যন্ত কঠোর ও আগ্রাসী ভূমিকা নেবেন। কিন্তু বাস্তবে ট্রাম্পের চীন নীতিতে এক ধরনের নমনীয়তা দেখা গেছে, যা বিশ্লেষকদের বিস্মিত করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক অধ্যাপক নিক বিসলে আল জাজিরাকে বলেন, ‘২০২৫ সালের শুরুতে আমরা অনেকেই নিশ্চিত ছিলাম ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে চীনকে চাপে ফেলার সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি তা করেননি।’
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনো অমীমাংসিত থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের বেইজিং সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বিশ্লেষকরা। অধ্যাপক বিসলের মতে, যুদ্ধের আবহে এই সফর প্রমাণ করে, ট্রাম্প চীনকে তার পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার তালিকায় ওপরের দিকে রেখেছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প যখন চীনা আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তখন দুই দেশের সম্পর্ক ভাঙনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল।
বিসলের ভাষায়, এটি ছিল কার্যত ‘বাণিজ্য অবরোধের’ শামিল। তবে পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষই সেই কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসে।
ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক ‘আগের চেয়ে ভালো হবে’।
এই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় অধ্যাপক বিসলে বলেন, ‘ট্রাম্পের নিজস্ব ভাষা বা কথার অলঙ্কার বাদ দিলে এটি পরিষ্কার যে, হোয়াইট হাউস এখন সম্পর্কের স্থিতিশীলতা এবং উন্নতির ওপর জোর দিচ্ছে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধরন শুধু এশিয়া নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের এই নমনীয় অবস্থান বিশ্বরাজনীতির স্থিতিশীলতায় কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: আল-জাজিরা
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


