কানাডাকে শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে: ট্রাম্প

কানাডাকে শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার কয়েক দিন পরই কানাডাকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, কানাডাকে আর ছাড় দেওয়া যাবে না, এবার শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার গ্লেন বেককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, কানাডার সঙ্গে তার একটি ‘বেশ ভালো’ চুক্তি হয়েছিল। তবে কানাডা সেই সমঝোতায় না আসায় এখন যুক্তরাষ্ট্র অন্য পথ বেছে নিতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, তাদের কাছে এমন কিছু নেই, যা আমাদের অবশ্যই প্রয়োজন। আমরা কোনোভাবে চলতে পারব। দু-একটি বিষয় হয়তো কিছুটা অসুবিধার হবে, কিন্তু সেগুলো অন্য জায়গা থেকেও পাওয়া সম্ভব। তাই কানাডাকে শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে—তোমরা আর এটা করতে পারবে না।

বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর গত শনিবার কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে পাল্টা ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় কানাডা। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এসব শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও কর্মীদের সহায়তায় বিভিন্ন পদক্ষেপও নিয়েছে অটোয়া।

এর আগে কানাডার গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপরও ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এসব শুল্ক আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। কানাডার দাবি, মাঝারি ও ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড় বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের অনীহা ছিল দুই দেশের মধ্যে চুক্তি না হওয়ার অন্যতম কারণ।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ উপদেষ্টা পিটার নাভারোও কানাডার ওপর চাপ বাড়িয়েছেন। বুধবার সি-স্প্যানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডা যে চুক্তিতে পৌঁছাবে, সেটি গত সপ্তাহে প্রস্তাব করা চুক্তির তুলনায় আরো খারাপ হতে পারে।

নাভারোর ভাষ্য, কানাডা যে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে, ভবিষ্যতে তারা আর সেই একই শর্তে চুক্তির সুযোগ পাবে না। তিনি বলেন, আপনারা যে চুক্তি পেয়েছিলেন এবং নাক সিটকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, সেই চুক্তি আর কখনো পাবেন না। শেষ পর্যন্ত যে চুক্তি হবে, তা এর চেয়ে কম সুবিধাজনক হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি কানাডার জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক ছিল বলেও মন্তব্য করেন নাভারো। এমনকি প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কতটা সুবিধাজনক ছিল, তা নিয়েও তিনি অস্বস্তি বোধ করেছিলেন বলে জানান। তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে কানাডার এটি প্রত্যাখ্যান করার কোনো কারণই ছিল না।

এদিকে, ট্রাম্পের বুধবারের মন্তব্যের বিষয়ে ওয়াশিংটনে কানাডার দূতাবাস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে শুল্ক পাল্টাপাল্টি এবং কড়া বক্তব্যের ফলে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর সুযোগ থাকলেও আপাতত দুই দেশের অবস্থান পরস্পরের বিপরীতমুখী বলেই মনে হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন