বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যেভাবে রাজকীয় অভ্যর্থনা দেওয়া হয়েছে, তা বিশ্বরাজনীতির পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে। ট্রাম্প ও শি জিপিং দুই নেতার ব্যক্তিত্ব ও শাসনপদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ট্রাম্প যেখানে স্পষ্টবাদী ও অস্থির, সেখানে শি জিনপিং বেশ ধীরস্থির ও প্রতীকী ভাষায় কথা বলায় অভ্যস্ত। এমন বিপরীতমুখী দুই নেতার এই সফর নিয়ে পুরো বিশ্ব এখন গভীর মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে।
চীনের কাছে আতিথেয়তা কেবল একটি সৌজন্যমূলক বিষয় নয়, বরং এটি কূটনীতির অন্যতম হাতিয়ার। চীনের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’, যা মার্কিন হোয়াইট হাউসের সমতুল্য, সেখানে যেকোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের আগমনকে চীন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। দৃশ্যমান আড়ম্বর ও প্রতীকী বাণীর মাধ্যমে চীন মূলত অতিথির গুরুত্ব বা তাদের মধ্যকার সম্পর্কের গভীরতাকে প্রকাশ করতে চায়।
২০১৭ সালে ট্রাম্প যখন প্রথমবার বেইজিং সফর করেছিলেন, তখন চীন তাকে ‘স্টেট ভিজিট-প্লাস’ মর্যাদা দিয়েছিল। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বেইজিংয়ের বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং। তিনি মূলত প্রতীকী দায়িত্ব পালন করেন এবং সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের অভিষেক অনুষ্ঠানেও চীনের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ট্রাম্পকে বেইজিংয়ে নামার পর যেভাবে রেড কার্পেট সংবর্ধনা, সামরিক কুচকাওয়াজ ও শিশুদের ফ্ল্যাগ নাড়ানোর মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট বেইজিং ট্রাম্পের এই সফরকে ঘিরে একটি বড় ধরনের দৃশ্যপট তৈরি করতে চেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই ব্যাপক প্রস্তুতি মূলত ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার একটি সুকৌশলী প্রচেষ্টা। দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে এই ‘রেড কার্পেট’ আতিথেয়তা চীনের পক্ষ থেকে এক ধরনের ইতিবাচক বার্তার ইঙ্গিত।
বেইজিং চাইছে, এই সফরের মাধ্যমে তারা বিশ্বের কাছে প্রমাণ করুক যে ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের বরফ গলছে এবং তারা একটি স্থিতিশীল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


