ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউরোপকে নিয়ে সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হলে মস্কোকে আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য করতে হবে।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের শেষ দিনে কালাস বলেন, ‘কেউ কেউ যা-ই বলুক না কেন, তথাকথিত ‘জাগ্রত’ বা ‘ক্ষয়িষ্ণু’ ইউরোপ সভ্যতা কোনো বিলুপ্তির মুখে নেই।’
এর আগে শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মিত্রদের আশ্বস্ত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ ‘একসঙ্গে ছিল, আছে এবং থাকবে।’ তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিজেদের ‘সভ্যতা’ রক্ষায় ইউরোপকে গণ-অভিবাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা জোরদার করতে হবে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কালাস বলেন, ‘আমরা যে বার্তাটি পেয়েছি তা হলো—আমেরিকা ও ইউরোপ অতীতে যেমন একসূত্রে গাঁথা ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। এটি গুরুত্বপূর্ণ।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, ‘সব ইস্যুতে আমাদের মতৈক্য নেই, এবং ভবিষ্যতেও তা নাও থাকতে পারে।’
মিউনিখের সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার আগ্রাসনের মুখে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ইউরোপকে নিজেদের প্রতিরক্ষা নেতৃত্ব নিজেদেরই নিতে হবে।
কালাস বলেন, “ইউরোপীয় সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের এখন জরুরি প্রয়োজন।” তার মতে, ইউরোপের প্রতিরক্ষার শুরু ইউক্রেন থেকে এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তির ওপর এর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নির্ভর করছে।
তিনি রাশিয়া কোনো সুপারপাওয়ার নয় উল্লেখ করে বলেন, দেশটি বর্তমানে ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। তবে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো—আলোচনার টেবিলে রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রের চেয়ে বেশি অর্জন করে ফেলে।’
ইইউ কূটনীতিক প্রধান রাশিয়ার সামরিক শক্তির আকার সীমিত করার আহ্বান জানান এবং ইউক্রেনে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য মস্কোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলেও জোর দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ক নিয়ে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই ইউরোপীয় নেতৃত্ব নিজেদের কৌশলগত স্বাধীনতা জোরদার করার বার্তা দিচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


মাদুরোকে ধরার অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্লডের ব্যবহার
ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ নীতিতে একমত ট্রাম্প–নেতানিয়াহু