শিক্ষার পরিবেশ ও অবকাঠামোগত সংকটসহ বিভিন্ন দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার দেশটির প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি উচ্চবিদ্যালয়ে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ক্লাস বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছে দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভি।
শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানান, এই সংখ্যা ফ্রান্সের মোট প্রায় ৩ হাজার ৭০০টি উচ্চবিদ্যালয়ের ১০ থেকে ১৩ শতাংশ। বিক্ষোভের কারণে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্যারিস অঞ্চলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হওয়া এই আন্দোলন গত সপ্তাহে আরও জোরালো হয়। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা খাতে বাড়তি অর্থ বরাদ্দ, স্কুল ভবনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো এবং শিক্ষক-কর্মচারীর সংকট মোকাবিলায় পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছেন।
প্যারিস ঘিরে ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার সেখানে ১৬০টির বেশি উচ্চবিদ্যালয় বন্ধ থাকার কথা ছিল। এদিন প্যারিসে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি ঘটনাও ঘটে। রাজধানীর ভোকল্যাঁ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রবেশপথের কাছে সকালে তিনটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রথম আগুনের খবর স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক পুলিশকে জানান। পরে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে যায় এবং শিক্ষার্থী ও কর্মীদের ভবনের ভেতরে অবস্থান করতে বলা হয়। পরে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থীকে স্কুলটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, প্যারিসের তুরগো উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা সোমবার ভোরে আবর্জনার বাক্স, বেড়া ও বিভিন্ন সাইনবোর্ড ব্যবহার করে প্রবেশপথ অবরোধ করে।
স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর গ্রেপ্তার ও আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের প্রায় ৮৫ শতাংশই ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলের অপ্রাপ্তবয়স্ক।
শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৭৮ কর্মী এবং প্রায় ৬০০ পুলিশ ও জেন্ডারম সদস্য আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭০ বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনার তদন্তে ফ্রান্সের জাতীয় পুলিশের সাধারণ পরিদর্শক দপ্তর পাঁচটি তদন্তও শুরু করেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বায়রু পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছেন। অক্টোবরের শেষ নাগাদ সংকট নিরসনে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে তার সরকার।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


