বেসরকারি মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনে তথ্য জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া কারিগরি জটিলতা কাটাতে তৃতীয় দফায় নতুন গুগল ফর্ম চালু করেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক আবেদন করায় আগের ফর্মে প্রবেশ ও তথ্য জমা দিতে সার্ভার ও ব্রাউজারজনিত সমস্যায় পড়েছিলেন অনেক আবেদনকারী।
রোববার বিকেল ৪টার দিকে নতুন গুগল ফর্মটি চালু করা হয়। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, রোববার দুপুরের দিকে বদলি আবেদনের গুগল ফর্মের লিংক চালু করা হয়েছিল। কিন্তু বিপুলসংখ্যক শিক্ষক একসঙ্গে ফর্মে প্রবেশের চেষ্টা করায় সার্ভার জটিলতা দেখা দেয়। ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফর্মটি সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়। পরে প্রয়োজনীয় আপডেট ও কারিগরি সমস্যার সমাধান করে বিকেল ৪টার দিকে নতুন ফর্ম চালু করা হয়েছে।
নতুন গুগল ফর্মে বদলির জন্য আবেদনকারী শিক্ষকরা প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারবেন। তবে অনলাইনে তথ্য দেওয়ার সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব শিক্ষক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হার্ডকপি আবেদন মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে জমা দিয়েছেন, কেবল তারাই গুগল ফর্মে তথ্য দিতে পারবেন।
এদিকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মাদরাসা শিক্ষকদের বদলির জন্য প্রায় ৪২ হাজার শূন্য পদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট থেকে বদলি আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়। এর পর থেকেই শিক্ষকরা নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করছেন।
তবে আবেদন প্রক্রিয়ায় অনলাইন ফর্মে তথ্য দেওয়ার সময় কারিগরি সমস্যার কারণে অনেক শিক্ষক ভোগান্তিতে পড়েন। বিশেষ করে একই সময়ে বিপুলসংখ্যক আবেদনকারী ফর্মে প্রবেশ করায় ওয়েবসাইট বা গুগল ফর্ম লোড হতে দেরি, তথ্য সংরক্ষণে সমস্যা এবং ফর্মে প্রবেশ করতে না পারার মতো অভিযোগ পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ফর্ম চালুর ফলে এসব সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে। তবে একসঙ্গে অতিরিক্ত সংখ্যক শিক্ষক ফর্মে প্রবেশ করলে আবারও সার্ভারে চাপ তৈরি হতে পারে। তাই আবেদনকারীদের ধৈর্য ধরে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে তথ্য জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এই উদ্যোগে বদলি প্রত্যাশী শিক্ষকদের অনলাইন তথ্য জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আবেদন করার আগে হার্ডকপি জমা দেওয়া হয়েছে কি না এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


