৩০ রুপির লোভে ৮৫ হাজার রুপি জরিমানা

৩০ রুপির লোভে ৮৫ হাজার রুপি জরিমানা
প্রতীকী ছবি

যে পানির বোতলের দাম ২০ রুপি, সেটাই সিনেমা হলের ভিতরে নেওয়া হয়েছিল ৫০ রুপি। তা নিয়ে মামলা করেছিলেন এক ব্যক্তি। প্রায় এক দশক পরে অবশেষে জয় পেলেন সেই মামলায়। সংশ্লিষ্ট মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ এবং পানি প্রস্তুতকারী বহুজাতিক সংস্থাকে ৮৫ হাজার রুপি জরিমানা করেছে বিহারের পাটনার ক্রেতা সুরক্ষা আদালত।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রেতা সুরক্ষা আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে মানসিক যন্ত্রণার কারণে ওই ব্যক্তিকে ২৫ হাজার রুপি দিতে হবে। আইনি খরচ বাবদ দিতে হবে ১০ হাজার রুপি। আর বাকি ৫০ হাজার রুপি দিতে হবে রাজ্য ক্রেতা কল্যাণ তহবিলে।

বিজ্ঞাপন

মামলাটির সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৬ সালে। রজত তিওয়ারি নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছিলেন, ২০১৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পাটনার একটি মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। হলে ঢোকার সময় তাকে আটকানো হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার সিনেমার জন্যও বাইরে থেকে অডিটোরিয়ামের ভেতরে নিজের পানির বোতল নিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি।

সেই পরিস্থিতিতে হলের ভেতরেই পানির বোতল কিনতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন রজত। তিনি দাবি করেন, হলের ভেতরে যখন একটি পানির বোতল কেনেন, সেটার জন্য দাম চাওয়া হয়েছিল ৫০ রুপি। অথচ বাজারে সর্বোচ্চ ২০ রুপিতে বিক্রি হয় সেই পানির বোতল। অর্থাৎ আড়াই গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছিল পানি।

বিষয়টি সেখানেই ছেড়ে দেননি রজত। বিষয়টি নিয়ে ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে যান তিনি। মানসিক হয়রানির জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়ার পাশাপাশি আইনি খরচ প্রদানেরও দাবি জানিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি।

মামলার শুনানির সময় মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ দাবি করে যে জিনিসের দাম নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। আর পানি বিক্রি করা ওই বহুজাতিক সংস্থা দাবি করে যে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল।

যদিও কোনো পক্ষেরই যুক্তি টেকেনি ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে। বরং আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে বাইরে থেকে বোতল নিয়ে যেতে না দিয়ে বেশি দামে পানি বিক্রি করে দুই সংস্থাই নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। সেই পরিস্থিতিতে ৮৫ হাজার রুপি জরিমানা ধার্য করে আদালত। ৪৫ দিনের মধ্যে সেই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন