জাতীয় সংসদে উত্থাপিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিলের ৮টি বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে বিলটি নিয়ে আলোচনাকালে বিরোধীদল তাদের ভিন্নমতের বিষয়গুলো লিখিতভাবে তুলে ধরেন। বৈঠকে বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়।
র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি নামে নতুন বাহিনী গঠনে গত বৃহস্পতিবার সংসদে বিল আনা হয়। পরে সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বিলটি নিয়ে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিলটি দ্রুত পাস না করে অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ সভা করা, রেকর্ড সুরক্ষা, স্বাধীন অভিযোগ তদন্ত, নিয়মিত নজরদারি, আটক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং বেআইনি আদেশের বিরুদ্ধে সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজেদের প্রস্তাব দিয়েছে। বিলে এসব ক্ষেত্রে যেভাবে বিধান রাখা হয়েছে তার সঙ্গে তারা ভিন্নমত পোষণ করেছে।
বিরোধীদল আপত্তি জানিয়ে বরেছে, প্রস্তাবিত অভিযোগ প্রতিকার কমিটির প্রধান ও সদস্য-সচিব এসআরবির কর্মকর্তা হওয়ায় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। কমিটির ক্ষমতাও সীমিত। তারা অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতিকে সভাপতি করে কমিটি করার প্রস্তাব দিয়েছে।
তারা বলেছে এসআরবিকে গ্রেপ্তার, তল্লাশি, জব্দ ও অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হলেও তাদের অভিযান ও কার্যক্রমের ওপর আদালত বা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়মিত নজরদারি/প্রতিবেদনের ব্যবস্থা নেই।
তাদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এসআরবি যে জেলায় কাজ করবে, সেখানে মাসিক কার্যবিবরণী দিতে হবে। এতে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া ব্যক্তির নাম, সময়, স্থান, কারণ, থানায় হস্তান্তরের সময়, তল্লাশি-জব্দের তথ্যসহ সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকবে। প্রতিবেদন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ সুপার/পুলিশ কমিশনারকে দিতে হবে।
বিরোধীদল বলেছে, বেসামরিক ব্যক্তিকে এসআরবি কোথায় ও কতক্ষণ আটক রাখতে পারবে, তা স্পষ্ট নয়। এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার সুযোগ থাকলেও সেগুলোর অবস্থান প্রকাশ ও হেফাজতের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড রাখার বাধ্যবাধকতা নেই।
তাদের প্রস্তাব এসআরবির প্রতিটি দপ্তর, ক্যাম্প, হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ সরকারি গেজেটে প্রকাশ করতে হবে। প্রতিটি আটক ব্যক্তির নাম, সময়, স্থান, আইনি কারণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসা ও থানায় হস্তান্তরের তথ্য রেজিস্টারে রাখতে হবে। থানায় হস্তান্তরের সর্বোচ্চ সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে।
কমিটির সদস্য জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন প্রথম আলোকে বলেন, র্যাবকে বিলুপ্ত করার অঙ্গীকার ছিল। কিন্তু এখন আসলে র্যাব যেভাবে ছিল হুবহু রেখে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বিলের ৭–৮টি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।
এদিকে বৈঠকের বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (SRB) বিল, ২০২৬’ পরীক্ষাপূর্বক রিপোর্ট প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে সংশোধিত আকারে বিলটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে বলা হয়, অতীতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB)-সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভিন্নভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে। তবে কোনো বাহিনীর অপব্যবহারের কারণে পুরো বাহিনীকে বিলুপ্ত না করে এর দক্ষ জনবল ও বিদ্যমান সরঞ্জামকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ, পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হুইপ রকিবুল ইসলাম, মো. কামরুজ্জামান, মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মো. নূরুল ইসলাম এবং মো. আব্দুল বাতেন অংশ নেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


