চলতি দুর্গোৎসবের মৌসুমে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বামপন্থি দলগুলোর (সিপিআইএম, এসইউসিআই, সিপিআই-এমএল) শারদীয় বুক স্টল ভাঙচুর, উচ্ছেদ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বাম দলগুলোর অভিযোগ, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং অন্যান্য দক্ষিণপনন্থি নেতারা বামপন্থিদের ‘দুর্গাপুজো’র বদলে ‘শারদোৎসব’ বলা নিয়ে আপত্তি তোলার পর থেকেই উসকানি পেয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের স্টলগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে পুজোর সময় বামেদের এই বইয়ের স্টল দেওয়ার ঐতিহ্য দীর্ঘ কয়েক দশকের, তাই এমন উচ্ছেদ বা ভাঙচুরের ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন। যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলের বিরুদ্ধে ওঠা এই হামলার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে সবকটি ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বলে দাবি করেছেন।
কলকাতার বউবাজারের রাজা সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার, ঢাকুরিয়া, ট্যাংরা, এন্টালি এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে শুরু করে জেলার বনগাঁ, বীজপুর, হাওড়ার শিবপুর, বহরমপুর ও বর্ধমান শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপের পাশে তৈরি করা স্টলগুলো ভেঙে দেওয়া বা পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে এন্টালিতে প্রাক্তন মন্ত্রী দেবেশ দাস আক্রান্ত হন এবং একাধিক জায়গায় পুলিশ ও পুরসভার পক্ষ থেকে বুলডোজার এনে স্টল সরানোর চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক এই তরজা পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টে আইনি লড়াইয়ের রূপ নেয়। প্রথম দিকে হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ কিছু এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তায় স্টল বসানোর অনুমতি দিলেও পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে। আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, পূর্ত দপ্তর, পুরসভা ও পুলিশের পূর্বানুমতি ছাড়া রাস্তার ধারে সরকারি জমিতে কোনো বেআইনি স্টল চালানো যাবে না, কারণ আইন সবার জন্যই সমান।
আদালতের এই কড়াকড়ির পর প্রশাসন অনুমতিহীন স্টলগুলি সরিয়ে দিচ্ছে। এর প্রতিবাদে মুক্ত চিন্তার ওপর আঘাতের অভিযোগ তুলে বাম কর্মীরা এখন অনেক জায়গাতেই স্থায়ী কাঠামোর বদলে রাস্তার ধারে টেবিল-চেয়ার পেতে ও ছাতা মাথায় দিয়ে বিকল্প উপায়ে বই বিক্রি ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

