অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক হারের পর কোনো অজুহাত দাঁড় করাতে চাননি অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ডারউইন টেস্টে চারদিন ধরে বাংলাদেশের দাপুটে পারফরম্যান্সের সামনে নিজেদের অসহায়ত্ব স্বীকার করে তিনি বলেছেন, ম্যাচের প্রথম দিনই তারা পিছিয়ে পড়েছিলেন। তার মতে, ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং মিলিয়ে তিন বিভাগেই বাংলাদেশ এগিয়ে ছিল।
ম্যাচ শেষে সম্প্রচার চ্যানেলকে কামিন্স বলেন, ‘সম্ভবত প্রথম দিনই আমরা হেরে গিয়েছিলাম। মনে হয় আমাদের প্রস্তুতি একদম সঠিক ছিল, কোনো অজুহাত নেই। কিন্তু তারা সেরাটা খেলেছে। সব বিভাগেই তারা (বাংলাদেশ) আমাদের চেয়ে এগিয়ে ছিল। তারা যথেষ্ট ধৈর্য ও নিয়মানুবর্তিতা দেখিয়েছে। বাংলাদেশ খুব ভালো দল।’
ডারউইনে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের সামনে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর তানজিদ হাসানের ১০১, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ ও মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংসে বাংলাদেশ তোলে ৪২৬ রান। প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের বড় লিড পায় সফরকারীরা। ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই ম্যাচের মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন কামিন্স। তিনি বলেন, ‘আমাদের আরো বেশি সময় ব্যাট করার পথ খুঁজে নিতে হতো। আরেকটি ব্যাপার হলো, এরপর আমরা বল হাতেও সুবিধা করতে পারিনি।’
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন ১০৪ রান করে লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। তবে মিরাজের ৫ উইকেট ও হাসান মাহমুদের ৩ উইকেটের সামনে ২৮৪ রানের বেশি যেতে পারেনি স্বাগতিকরা। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। ১৪.২ ওভারেই সেই লক্ষ্য পেরিয়ে যায় সফরকারীরা। গ্রিনের ইনিংসের প্রশংসা করে কামিন্স বলেন, ‘গ্রিন দেখিয়েছে সে কতটা ভালো খেলোয়াড়। তার সঙ্গে আমাদের আরো দু-একজনকে উইকেটে টিকে থাকতে হতো।’
এই ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিং নেওয়া নিয়ে সমালোচনা হলেও কোনো অনুতাপ নেই বলেও জানিয়েছেন কামিন্স। তার ভাষায়, ‘আমি সিদ্ধান্তটি নিয়ে অনুতপ্ত নই। আমি সম্ভবত আবারও একই সিদ্ধান্ত নিতাম।’ বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ও জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘ম্যাচটি মাত্র শেষ হলো। এটি নিয়ে আমরা অবশ্যই চিন্তাভাবনা করব। তবে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আমরা বেশ আশাবাদী।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

