রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, এ সময়ে নির্বাচন হলে তা দেশকে বিভক্ত করে দিতে পারে।
শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে জেলেনস্কি বলেন, “এ ধরনের যুদ্ধে নির্বাচন নিজেই একটি বড় ঝুঁকি। এখন নির্বাচন ইউক্রেনের জন্য এমন এক সুনামি হবে, যা দেশকে বিভক্ত করে দেবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি দেশকে ধ্বংস করতে চাই, তাহলে যুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচনের দিকে এগোতে পারি।”
রাশিয়ার ২০২২ সালের আগ্রাসনের পর ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি রয়েছে। এর আওতায় নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে। যুদ্ধের কারণে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের ভোটাধিকার, বিদেশে থাকা লাখ লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থীর ভোট, রুশ-অধিকৃত এলাকার মানুষের অংশগ্রহণ এবং রুশ অপপ্রচারের আশঙ্কাসহ নানা জটিলতা রয়েছে।
সম্প্রতি ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ নির্বাচন আয়োজনের উপায় খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা দেননি। জেলেনস্কি তার এই অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, ফেদোরভ “ভুল পথে” এগোচ্ছেন বা তাকে সেই পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
একটি জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ১৫ শতাংশ ইউক্রেনীয় যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন চান।
এদিকে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর, বিশেষ করে রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ককে দেশের জন্য বিভাজনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন জেলেনস্কি।
তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় সমাজ ও সেনাবাহিনীকে বিভক্ত করা উচিত নয়। তার ভাষায়, “আমাদের স্বীকার করতে হবে যে এই ঝুঁকি রয়েছে—বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে যাওয়ার ঝুঁকি।”
ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোমবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নেতা দেশটিতে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সময়ে রুশ হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও মিত্রদেশগুলোর মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র:এএফপি
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


