ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য অভূতপূর্ব ‘পিছু হটা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম । দীর্ঘদিনের আন্দোলন এবং দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে সরকারের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, এটি এমন এক সরকারের ‘বিরল পিছু হটা’, যে সরকার দীর্ঘদিন ধরে ভিন্নমত প্রকাশের পরিসর সংকুচিত করেছে। পত্রিকাটির মতে, নিট পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও আন্দোলনটি দ্রুত বেকারত্ব, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট, পর্যাপ্ত সরকারি বিনিয়োগের অভাব এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশার বৃহত্তর প্রতীক হয়ে ওঠে।
বিবিসি আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক ‘ককরোচ’ পরিচয়ের রূপান্তরকে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তরুণেরা ‘ককরোচ’ শব্দটিকে প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত করেন। আন্দোলনস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশ, বিপুল জনসমাগম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের উপস্থিতির চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আন্দোলনটি মোদি সরকারের দীর্ঘদিনের কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংবাদমাধ্যম মন্তব্য করেছে, জবাবদিহির সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়লেও কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা জেন-জি প্রজন্ম সেই বাস্তবতাকে সহজভাবে মেনে নিতে রাজি নয়।
অন্যদিকে, ব্লুমবার্গ লিখেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রসিকতা হিসেবে শুরু হওয়া ‘ককরোচ’ আন্দোলন অল্প সময়ের মধ্যেই সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম বড় ছাত্র আন্দোলনে পরিণত হয় এবং মোদি সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর মূল্যায়নে এই আন্দোলন শুধু একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত করেনি; বরং ডিজিটাল প্রজন্মের সংগঠিত প্রতিবাদ, গণতান্ত্রিক জবাবদিহির দাবি এবং সামাজিক মাধ্যমনির্ভর আন্দোলনের শক্তিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


