ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সহিংসতা ঘিরে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। শুধু রাজনৈতিক কর্মীরাই নন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
ভোট-পরবর্তী সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটাই কি বাংলায় ভয়ের রাজনীতি শেষ করার নমুনা?”
অভিষেকের অভিযোগ, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি এলাকায় বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতীরা গুন্ডারাজ কায়েম করে ৬০টিরও বেশি দোকান জ্বালিয়ে দিয়েছে। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তিনি বলেন, “বাংলা জুড়ে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে একাধিক জায়গা থেকে হিংসাত্মক ছবি উঠে এসেছে। বিভিন্ন স্থানে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে, খুন হয়েছেন একাধিক কর্মী। ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে, কর্মীদের ঘরছাড়া করা হচ্ছে।”
তৃণমূলের দাবি, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একে একে তাদের কর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন তৃণমূল কর্মী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। নিহতরা হলেন—এন্টালির তাপস নস্কর, নানুরের আবির শেখ, বেলেঘাটার বিশ্বজিৎ পট্টনায়ক, পূর্বস্থলী দক্ষিণের পিঙ্কু দেবনাথ, কুলপির মিঠুন সামন্ত এবং গোঘাটের সহদেব বাগ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও লেখেন, “হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবার দোকান জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবন আজ বিপন্ন। বাংলা জ্বালিয়ে দিয়ে বিজেপি কি এভাবেই ভয় তাড়াবে?”
Is this how you plan to drive “Bhoi” out? By setting Bengal on fire?
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) May 10, 2026
What unfolded in Khejuri’s Nichkasba GP, Hijli Sharif is nothing short of barbaric.
Over 60 shops were torched by BJP-backed miscreants, destroying the livelihoods of innocent people overnight. Hindu-owned… pic.twitter.com/k9xHsjDtHa
তিনি দাবি করেন, খেজুরির নিচকসবা গ্রাম পঞ্চায়েতের হিজলি শরিফ এলাকায় যা ঘটেছে, তা “চরম বর্বরতা”। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে ৬০টিরও বেশি দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে অসংখ্য সাধারণ মানুষ জীবিকা হারিয়েছেন।
অভিষেক বলেন, “হিন্দু বা মুসলিম—কাউকেই রেহাই দেওয়া হয়নি। এটি কোনো একটি সম্প্রদায়ের ওপর প্রতিহিংসাপরায়ণ আক্রমণ নয়, বরং বাংলার সামাজিক সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষের ওপর পরিকল্পিত হামলা।”
তিনি আরও বলেন, “এটাই বিজেপির রাজনীতির আসল চেহারা। ঘৃণা, ভয় দেখানো এবং ধ্বংসের রাজনীতিতেই তারা বিশ্বাসী। বাংলা কখনও এই সহিংসতার সামনে মাথা নত করবে না।”
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবিও জানান তিনি।
এদিকে, নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই বাংলার শহর থেকে গ্রাম—সব প্রান্তে রাজনৈতিক সহিংসতার ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্ব প্রকাশ্যে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানালেও, তৃণমূলের দাবি—মাঠপর্যায়ে সহিংসতা বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, বিজেপির কথার সঙ্গে কাজের বিস্তর ফারাক রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাগুলো তারই প্রমাণ। রাজনৈতিক হামলা এখন আর শুধু দলীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; সাধারণ নিরীহ মানুষও এর শিকার হচ্ছেন। রাতারাতি বহু দরিদ্র মানুষের দোকানপাট পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, হারিয়ে গেছে তাদের জীবিকা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

