উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে মক্কায় হজ, ওমরাহ ও জিয়ারতকারীদের সেবার মান আরো উন্নত করার লক্ষ্যে ২৬তম বৈজ্ঞানিক ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে গবেষক, বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও সেবা প্রদানকারীরা অংশ নেন। ‘হজ ও ওমরাহ সেবা ব্যবস্থায় উৎকর্ষ ও সমন্বয়’ শীর্ষক এবারের ফোরামটি বাদশাহ সালমানের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হয়।
ফোরামে হজ ও ওমরাহ সেবায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, পবিত্র স্থানগুলোতে পরিচালনাগত দক্ষতা পরিমাপ, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও তথ্য বিনিময়, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি এবং সেবা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষণা, নতুন ধারণা ও সফল উদ্যোগগুলো তুলে ধরা হয়।
সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আল-আবদ আল-আলি বলেন, ভিশন ২০৩০-এর আওতায় দেশটির স্বাস্থ্য খাতে কাঠামোগত ও প্রশাসনিক সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মূলত নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির দায়িত্ব পালন করছে। এর সঙ্গে সৌদি খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ, জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং সৌদি রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি জানান, হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর অনেক আগেই স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি শুরু হয়। স্বাস্থ্যবিষয়ক শর্ত নির্ধারণ, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, টিকা গ্রহণ যাচাই এবং প্রবেশপথগুলোতে স্বাস্থ্য নজরদারির মাধ্যমে হাজিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সৌদি হজ ও ওমরাহবিষয়ক উপমন্ত্রী ড. আবদুল ফাত্তাহ মাশাত বলেন, ভিশন ২০৩০-এর ফলে হাজিদের জন্য সেবার মান ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে যেখানে হজকে কেন্দ্র করে মৌসুমি কার্যক্রম পরিচালিত হতো, এখন তা সারা বছর চালু থাকা একটি টেকসই ব্যবস্থায় রূপ নিচ্ছে। এর আওতায় খাবার, আবাসন ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে এবং সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা হচ্ছে।
তিনি জানান, পবিত্র মক্কায় অনুমোদিত ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত চার বছরে প্রায় ৭০ থেকে বেড়ে ৩০০-এর বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে ইলেকট্রনিক ট্র্যাক ও ‘নুসুক’ অ্যাপসহ সারা বছর ব্যবহারের উপযোগী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। হজ মৌসুমের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি বছরের অন্যান্য সময়েও তাদের কার্যক্রম চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
হজ ও ওমরাহ নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ ইউনিটের কমান্ডার মেজর জেনারেল ড. ফাওয়াজ আল-মুতাইরি বলেন, দুই পবিত্র মসজিদে জনসমাগম ব্যবস্থাপনা এখন ২৪ ঘণ্টার সমন্বিত কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ও সময়সূচি ব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত ভিড়ের স্থানগুলো নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হচ্ছে।
সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য অনুযায়ী হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত করার যে উদ্যোগ চলছে, এই বৈজ্ঞানিক ফোরামকে তারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লির জন্য নিরাপদ ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করাই এর প্রধান লক্ষ্য।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

