যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, ইরানে ভারতের ‘চাবাহার স্বপ্ন’ কি শেষ?

আমার দেশ অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, ইরানে ভারতের ‘চাবাহার স্বপ্ন’ কি শেষ?
ছবি: এএফপি

ইরানের চাবাহার বন্দরকে ঘিরে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ভারতের আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত চাবাহার বন্দর এখন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক করিডর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই বন্দর ছিল ভারতের অন্যতম প্রধান ভরসা।

বিজ্ঞাপন

কেন গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার?

ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত চাবাহার বন্দরে রয়েছে দুটি টার্মিনাল শহীদ কালানতরি ও শহীদ বেহেশতি। এর মধ্যে শহীদ বেহেশতি টার্মিনালে ভারত প্রায় ১২ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই বন্দর ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতার কারণে স্থলপথে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পৌঁছানো ভারতের জন্য প্রায় অসম্ভব। এই অবস্থায় চাবাহার বন্দর ব্যবহার করে সমুদ্রপথে ইরানে পৌঁছে সেখান থেকে সড়ক ও রেলপথে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পণ্য পরিবহন সম্ভব হয়।

কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা

চাবাহার বন্দরের গুরুত্ব শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৬ সালে পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দরের উদ্বোধনের পর এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চীনের সহায়তায় নির্মিত গওয়াদার বন্দর ভারতের জন্য সম্ভাব্য সামরিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়।

গোয়াদার থেকে মাত্র ১৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চাবাহার বন্দর ভারতের জন্য এক ধরনের কৌশলগত ভারসাম্য তৈরি করে। এর মাধ্যমে ভারত ওই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখতে পারে।

আন্তর্জাতিক করিডরের কেন্দ্রবিন্দু

চাবাহার বন্দর আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডরের (আইএনএসটিসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রায় ৭ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডরের মাধ্যমে ভারত, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে রেল, সড়ক ও সমুদ্রপথে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এটি ভারতের জন্য মধ্য এশিয়া ও ইউরেশিয়ার বাজারে প্রবেশের একটি বড় সুযোগ তৈরি করে।

নতুন সংকট

সম্প্রতি ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে নৌ অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ভারতের জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় নয়াদিল্লি বাড়তি উদ্বেগে রয়েছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ছাড় না দিলে ভারতের চাবাহার প্রকল্প বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। এতে শুধু একটি বন্দর নয়, বরং ভারতের আঞ্চলিক কৌশল, বাণিজ্যিক সংযোগ এবং ভূরাজনৈতিক অবস্থান সবকিছুই প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে ভারতের বহু প্রতীক্ষিত ‘চাবাহার স্বপ্ন’ কি তবে সত্যিই থমকে যাচ্ছে? নাকি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নতুন কোনো সমাধান বের হবে এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সূত্র: আল জাজিরা

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন