টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নদীর পানি বাড়ায় পানির তীব্র চাপে ভেঙে গেছে বাঁধ। সেই ভাঙন দিয়ে ঢুকে পড়া পানিতে তলিয়ে গেছে জিনারিয়া হাওরের বিস্তীর্ণ বোরো ধানক্ষেত। মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে জিরাতি করতে আসা অর্ধশতাধিক কৃষকের সারা বছরের স্বপ্ন, পরিশ্রম ও আশা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাওরে চাষাবাদের জন্য উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের বোলাই নদীর তীরে মুখশেদপুর এলাকায় বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা কৃষকেরা ছয় মাসের জন্য অস্থায়ী বসতি গড়ে তোলেন।

জীবিকার তাগিদে স্থায়ী বাড়িঘর ছেড়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে বসবাস করে তারা হাওরের বুকে সোনালি ফসল ফলান। এ জন্য অনেক ক্ষেত্রে সন্তানদের পড়াশোনাও বন্ধ রাখাসহ নানান প্রতিকূলতা পেরুতে হয়। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের চাপে বৃহস্পতিবার সকালে বোলাই নদীর পাশের একটি খালের বাঁধ ভেঙে যায়। এতে পানি ঢুকে জিনারিয়া হাওরের ফসলি জমি তলিয়ে যায়। হাওরের অধিকাংশ জমিতেই জিরাতি করতে আসা কৃষকেরা চাষাবাদ করে থাকেন। হঠাৎ এ বিপর্যয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
জিরাতি করতে আসা কৃষকেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা নিজ গ্রাম ছেড়ে এখানে অস্থায়ী বসতি গড়ে ফসল ফলিয়ে আসছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করেছেন, ভালো ফলনের আশায়। কিন্তু বাঁধে ভাঙনের পর সবকিছুই পানিতে ভেসে গেছে।
মুখশেদপুরের কৃষক বক্ত সরকার বলেন, “আমরা অনেক কষ্ট করে এই জমিতে ধান ফলিয়েছি।মাসের পর মাস বাড়িঘর ছেড়ে এখানে থাকছি। এখন সব পানির নিচে—আমরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলাম।”
আরেক কৃষক নিকেশ সরকার বলেন,“ধারদেনা করে জমি চাষ করেছি। ধান পাকাই ছিল, কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকায় কাটতে পারিনি। বাঁধ ভেঙে আমার ২০ কাঠার জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।”
উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, জিনারিয়া হাওরের ২৬ হেক্টর জমির মধ্যে বাঁধ ভাঙার আগেই জলাবদ্ধতায় ৮ হেক্টর তলিয়ে ছিল। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর আরও প্রায় ৩ হেক্টর জমি পানির নিচে চলে গেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

