এবারের বিশ্বকাপে নিশ্চিতভাবেই ফেভারিটদের তালিকায় থাকবে ফ্রান্স। শিরোপার অন্যতম দাবিদার তারা। সে লক্ষ্যেই নিজেদের প্রথম ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে যাচ্ছে দিদিয়ের দেশমের দল। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় ‘আই’ গ্রুপের লড়াইয়ে ইস্ট রাদারফোর্ডে মুখোমুখি হবে ইউরোপের শক্তিধর ফ্রান্স ও আফ্রিকার অন্যতম সেরা দল সেনেগাল। কাগজে-কলমে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও ম্যাচটি ঘিরে বিশেষ আগ্রহের কারণ ২০০২ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি, যেখানে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল সেনেগাল।
২৪ বছর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে পাপা বুবা দিয়পের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল সেনেগাল। সেই ম্যাচটি শুধু একটি জয় ছিল না, বরং বিশ্ব ফুটবলে আফ্রিকান ফুটবলের উত্থানের অন্যতম প্রতীক হয়ে আছে। এবারও বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশী ফ্রান্সের বিপক্ষে নতুন করে ইতিহাস লেখার স্বপ্ন দেখছে ‘তেরাঙ্গার সিংহরা’।
অন্যদিকে ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবারও অন্যতম ফেভারিট হিসেবে বিশ্বকাপে এসেছে। ২০২২ সালের হতাশা কাটিয়ে আবারও ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামছে দিদিয়ের দেশমের দল। এ আসরটি দেশমের জন্যও বিশেষ; কারণ বিশ্বকাপ শেষে তিনি ফ্রান্স দলের দায়িত্ব ছাড়বেন। তার জায়গায় দায়িত্ব নেওয়ার কথা ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের। ফ্রান্সের ইতিহাসের অন্যতম সফল এই কোচ ইতোমধ্যে বিশ্বকাপে ১৪ ম্যাচ জিতিয়েছেন দলকে। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই জয় পেলে তিনি জার্মানির হেলমুট শনের ১৬ বিশ্বকাপ জয়কে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়বেন।
বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে দারুণ ছন্দে ছিল ফ্রান্স। মাত্র দুই পয়েন্ট হারিয়ে টানা অষ্টমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় তারা। গত সাত বিশ্বকাপের চারটিতেই ফাইনাল খেলেছে ‘লে ব্লু’রা। যদিও বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে ২-১ গোলে হেরে কিছুটা সমালোচনার মুখে পড়েছিল দলটি। এরপর উত্তর আয়ারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় ফরাসিরা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ১০ ম্যাচের ৯টিতেই দুই বা তার বেশি গোল করেছে তারা।
সেনেগালও কম আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে না। বাছাই পর্বে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে তারা। এটি তাদের টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ। ২০২২ সালে শেষ ষোলোতে উঠেছিল আফ্রিকার দলটি, আর এর মাঝেই জিতেছিল ২০২১ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শিরোপা। তবে বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে কিছুটা হোঁচট খেতে হয়েছে পাপে থিয়াওয়ের দলকে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩-২ গোলে হারার পর সৌদি আরবের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে তারা। যদিও শেষ সাত ম্যাচে পাঁচটি ক্লিন শিট প্রমাণ করে রক্ষণভাগ এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী। সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াওয়ের জন্য ম্যাচটি আবেগেরও। ২০০২ সালে ফ্রান্সকে হারানো ঐতিহাসিক সেনেগাল দলের সদস্য ছিলেন তিনি। যদিও সে ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পাননি, বেঞ্চ থেকে দেখেছিলেন পাপা বুবা দিয়পের জয়সূচক গোল।
ম্যাচটির আরেক বড় আকর্ষণ হতে পারে দুদলের তারকা ফরোয়ার্ডদের দ্বৈরথ। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে জাতীয় দলের হয়ে ৫৬ গোল করে ফেলেছেন। আর একটি গোল করলেই তিনি অলিভিয়ে জিরুর ৫৭ গোলের সর্বকালের রেকর্ড স্পর্শ করবেন। অন্যদিকে সেনেগালের আক্রমণের মূল ভরসা সাদিও মানে। চোটের কারণে ২০২২ বিশ্বকাপ মিস করা এই তারকা এবার পুরোপুরি ফিট এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
দলীয় খবরেও স্বস্তি আছে দুই শিবিরে। চোট শঙ্কা কাটিয়ে ফ্রান্সের ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা অনুশীলনে ফিরেছেন। জুল কুন্দেও খেলতে প্রস্তুত। গোলরক্ষক মাইক মেনিয়ঁর শারীরিক অবস্থা নিয়েও বড় কোনো উদ্বেগ নেই। সেনেগাল শিবিরে আসানে দিয়াও, শেরিফ এনদিয়ায়ে ও ইদ্রিসা গেইয়েকে নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও তাদের চোট গুরুতর নয়। তবে আক্রমণে নিকোলাস জ্যাকসনকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে।
বিশ্বকাপের শুরুতেই তাই অপেক্ষা করছে এক রোমাঞ্চকর লড়াই। ফ্রান্স চাইবে শিরোপা মিশনের নিখুঁত সূচনা করতে, আর সেনেগাল খুঁজবে ২০০২ সালের সেই অবিস্মরণীয় রাতের পুনরাবৃত্তি। ইতিহাস, আবেগ আর তারকাদের লড়াইয়ে জমজমাট এক ম্যাচের অপেক্ষায় এখন ফুটবল বিশ্ব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

