নাহিদ ইসলাম

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ৬ মাসে দলীয় ক্লাবে পরিণত করেছে বিএনপি

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ৬ মাসে দলীয় ক্লাবে পরিণত করেছে বিএনপি
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ছবি: আমার দেশ

বিএনপি ক্ষমতায় এসে গত ছয় মাসেই বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় ক্লাবে পরিণত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

সোমবার রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ছয় মাসে ১৯ থেকে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন ও ৬৩টি জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে। এসব পদ ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়নবঞ্চিত এবং নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রার্থীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত করেছে বিএনপি।

তিনি জানান, গত ছয় মাসে দেশে ৮৩০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৬৭০টি ঘটিয়েছে বিএনপি নিজেই। এসব ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে এনসিপির নেতাকর্মীরাও হামলার শিকার হয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার প্রথম থেকেই গণভোটের রায়কে প্রত্যাখান করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে।

দেশের তৎকালীন অর্থনৈতিক ও বিদ্যুৎ সংকটের কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকারে আসার পরই তীব্র জ্বালানি তেল সংকট শুরু হয় এবং তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়। এর প্রভাবে গণপরিবহন, সেচ ও সারসহ সব খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে গ্যাসে ৪৩ শতাংশ ঘাটতি থাকায় ঢাকায় বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন কমে গেছে। ফলে একের পর এক রপ্তানি আদেশ (অর্ডার) হাতছাড়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ক্ষমতাগ্রহণের পর দুই বছর বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না বলে সরকার অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে লোডশেডিং, ভূতুড়ে বিল ও ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা জনগণের ওপর চাপানো হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন করা জাতীয় কমিটির সুপারিশও মানা হচ্ছে না। এখন যেকোনো সংকট তৈরি হলেই আগের ফ্যাসিস্ট কিংবা অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে, অথচ এর চেয়েও খারাপ পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব সামলেছিল।

কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের চিত্র তুলে ধরে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, কৃষক সঠিক সময়ে সার পাচ্ছেন না, বরং চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। এ ছাড়া ব্যাংক খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। স্বাস্থ্য খাতে হামের প্রাদুর্ভাব ও মহামারির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দায় চাপানো হলেও বর্তমান সরকার সংকট মেটাতে পারেনি; এমনকি কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালও গড়ে তোলেনি। অন্যদিকে শিক্ষাঙ্গনগুলোতে দখলদারিত্ব চলছে এবং বিরোধী মতাদর্শের ওপর হামলা হলেও কোনো বিচার পাচ্ছে না কেউ।

বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র

180 days

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন